বিডিআর হত্যাকাণ্ড নিয়ে তদন্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ

বিশেষ প্রতিনিধি :

3 Min Read

বিডিআর হত্যাযজ্ঞ নিয়ে গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দিয়েছে। রোববার (৩০ নভেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কমিশনের প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে সদস্যরা প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করেন।

কমিশনের সদস্যরা দাবি করেন, তদন্তে হত্যাকাণ্ডের পেছনে বহিঃশক্তির সম্পৃক্ততা এবং তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ছিল পরিকল্পিত এবং তৎকালীন সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপসকে তারা “প্রধান সমন্বয়কারী” হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

কমিশনের সঙ্গে থাকা অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন মেজর জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার (অব.), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুর রহমান বীর প্রতীক (অব.), যুগ্মসচিব (অব.) মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, ডিআইজি (অব.) ড. এম. আকবর আলী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মো. শরীফুল ইসলাম এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহনেওয়াজ খান চন্দন।

প্রতিবেদন গ্রহণ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ড নিয়ে জাতি দীর্ঘদিন অন্ধকারে ছিল। তদন্ত কমিশনের কাজ জাতিকে সত্যের কাছাকাছি নিয়ে যাবে এবং বহু প্রশ্নের জট খুলে দেবে।

কমিশন প্রধান ফজলুর রহমান জানান, ঘটনাটি ১৬ বছর আগের হওয়ায় অনেক আলামত হারিয়ে গেছে এবং সংশ্লিষ্ট অনেকেই দেশত্যাগ করেছেন। তা সত্ত্বেও দুই ধাপে সাক্ষ্যগ্রহণ ও আগের তদন্ত নথি সংগ্রহের মাধ্যমে তারা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে কাজ করার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, বিডিআর সদস্য, ঘটনার সাক্ষী, তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা করে তারা ঘটনাটির গতিপ্রকৃতি পুনর্গঠন করেছেন।

মেজর জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার দাবি করেন, তাদের তদন্তে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতি এবং পিলখানায় মিছিল নিয়ে প্রবেশের মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে উঠে এসেছে।

কমিশন প্রধান আরও দাবি করেন, পুরো ঘটনাটি ঘটতে তৎকালীন সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সংকেত ছিল। তার মতে, রাজনৈতিকভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে সেনাবাহিনীসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত বাহিনীর ভূমিকা দুর্বল হয়ে পড়ে। পাশাপাশি কিছু গণমাধ্যম ও সাংবাদিকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে ভবিষ্যতে বাহিনীগুলোর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করা, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষণে কঠোর নীতি গ্রহণ, এবং ভিকটিম পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।

প্রতিবেদন জমা দেওয়ার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ এবং স্বরাষ্ট্রসচিব নাসিমুল গনি।

- Advertisement -
newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *