ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ সর্বনিম্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক :

3 Min Read

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর ঘোষিত নারী প্রতিনিধিত্বের প্রতিশ্রুতি কার্যত উপেক্ষিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নারী রাজনৈতিক অধিকার ফোরামের দাবি, নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা ৫১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে অন্তত ৩০টির কোনো নারী প্রার্থী নেই।

সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর–রুনী মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ফোরামের নেতারা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের প্রতিনিধি, শিল্পী ও নির্মাতা ঋতু সাত্তার। এ সময় ফোরামভুক্ত বিভিন্ন নারী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের ঘোষণায় অন্তত ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী দেওয়ার অঙ্গীকার করলেও বাস্তবে তা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। ফোরামের অভিযোগ অনুযায়ী, কোনো দলই এই ন্যূনতম লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি।

ঋতু সাত্তার বলেন, জুলাই সনদে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো রাজনৈতিক দলগুলো গুরুত্ব দেয়নি। তিনি জানান, অনেক নারী সক্রিয়ভাবে মনোনয়ন চাইলেও দলগুলো নারী প্রার্থীদের উপেক্ষা করেছে। এমনকি যৌথ প্রার্থী দেওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তা কাজে লাগানো হয়নি।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোতে যোগ্য ও অভিজ্ঞ নারী নেতৃত্ব থাকলেও তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না। নারীদের শুধু সাংগঠনিক কাঠামোয় রাখা হলেও নীতিনির্ধারণে ভূমিকা দেওয়ার প্রবণতা নেই।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা স্মরণ করিয়ে দেন, জুলাই আন্দোলনে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ আন্দোলনকে বেগবান করে। অথচ সেই নারীরাই এখন নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি উপেক্ষার শিকার হচ্ছেন।

ফোরামের পক্ষ থেকে বলা হয়, শেষ মুহূর্তে কয়েকজন স্বতন্ত্র নারী প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিলেও সামগ্রিক চিত্র অত্যন্ত হতাশাজনক। নির্বাচন কমিশন ‘জেন্ডার ইনক্লুসিভ ইলেকশন’-এর কথা বললেও বাস্তবে তার কোনো কার্যকর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

নারী নেত্রীরা আরও অভিযোগ করেন, পুরুষতান্ত্রিক রাজনৈতিক কাঠামো, সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীন পরিবেশের কারণে অনেক যোগ্য নারী শেষ পর্যন্ত নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন। নির্বাচনে নারী ও পুরুষের জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত হয়নি বলেও তারা দাবি করেন।

সংরক্ষিত নারী আসনের বিষয়ে ফোরামের অবস্থান স্পষ্ট করে বক্তারা বলেন, নারীদের জন্য আলাদা আসন নয়, বরং সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা উচিত।

- Advertisement -

বক্তাদের মতে, গত ৫৪ বছরের মধ্যে এবারই এমন একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে নারীদের অংশগ্রহণ সবচেয়ে কম। এটি শুধু নারীদের জন্য নয়, দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্যও লজ্জাজনক। রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের ঘোষিত প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করলে ভবিষ্যতে নারীদের আস্থা হারানোর ঝুঁকি বাড়বে বলেও তারা সতর্ক করেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নোত্তর পর্বে বক্তব্য দেন ইউপিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অ্যাক্টিভিস্ট মাহরুখ মহিউদ্দীন এবং বহ্নিশিখার পরিচালক সামিনা ইয়াসমিনসহ অন্যান্যরা।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *