জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কার আদেশ বাস্তবায়নের বিরোধিতার মাধ্যমে বিএনপি ফ্যাসিবাদী শাসনের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
রোববার বিকেলে বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেলের নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ৩৩টি রাজনৈতিক দলের দীর্ঘ নয় মাসের আলোচনার ভিত্তিতে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়। পরবর্তীতে এ সনদকে আইনি ভিত্তি দিতে রাষ্ট্রপতির আদেশে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন করা হয়, যেখানে সব দলের ঐকমত্য ছিল।
তিনি অভিযোগ করেন, ঐকমত্য কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য দুই ভূমিকায় শপথ নেওয়ার কথা থাকলেও বিএনপি তা করেনি। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর দলটি সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়া থেকে সরে গিয়ে এখন সংশ্লিষ্ট আদেশ বাতিলের প্রস্তাব করছে, যা জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল।
জামায়াতের এই নেতা দাবি করেন, গণভোটে বিপুলসংখ্যক ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে বিএনপির ভিন্নমত প্রত্যাখ্যান করেছে। কিন্তু বিএনপি সেই গণভোটও অস্বীকার করছে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাতিলের চেষ্টা করছে, যা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিপন্থি।
সভায় উপনির্বাচনের পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার অভিযোগ, সরকারি দলের প্রার্থীর সমর্থকেরা জামায়াতের নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে এবং অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। প্রশাসনের কাছে তিনি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বগুড়া শহর জামায়াতের আমির ও প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাগপার সিনিয়র সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধানসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।
রাশেদ প্রধান তার বক্তব্যে বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এসে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে দ্বিমুখী আচরণ করেছে এবং স্বল্প সময়েই স্বৈরাচারী প্রবণতা প্রদর্শন করছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, দলটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতেও নির্বাচনের বাইরে নিয়োগ দিচ্ছে।
অনুষ্ঠানে জামায়াত প্রার্থীর ১৪ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ও উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়, যা পাঠ করেন ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল আজিজ।
