ধর্মীয় বিভাজনের বিপরীতে সামাজিক সংহতি ও সাম্যে বিশ্বাসী সরকার দেশের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি নিশ্চিতকরণে অঙ্গীকারবদ্ধ। এই লক্ষ্যে নৈতিকতা সৃষ্টি, সকল ধর্মীয় প্রধানের সামাজিক মর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়ন এবং হজ ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে ১ হাজার ৮১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
আজ জাতীয় সংসদে বাজেট পেশকালে এই খাতের সামগ্রিক কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়।
বাজেট বক্তৃতায় জানানো হয়, দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে সরকার একটি যুগান্তকারী কল্যাণমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার। এর আওতায় মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের মাসিক ভিত্তিতে মোট ১০ হাজার টাকা এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পুরোহিত ও সেবায়েতদের মোট ৮ হাজার টাকা করে সম্মানী প্রদান করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত দেশের মোট ৬ হাজার ৪৩৮টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৯ হাজার ৫২০ জনকে মাসিক সম্মানী ও উৎসব ভাতা প্রদান করা হয়েছে।
সরকার পর্যায়ক্রমে এই সুবিধা দেশের সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রাথমিক দফতরে এই সামগ্রিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ১ হাজার ৮১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
ইসলামি মূল্যবোধের প্রচার ও গবেষণার পাশাপাশি পবিত্র হজ ব্যবস্থাপনাকে অধিকতর সাশ্রয়ী, সহজ ও সাবলীল করতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে বলে বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করা হয়। একই সাথে আগামীতে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের দক্ষতার পরিধি বাড়াতে প্রশিক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধির বিশেষ উদ্যোগ হাতে নেওয়া হয়েছে।
বাজেটে আরও জানানো হয়, ওয়াকফ সম্পত্তির সুরক্ষায় সরকারের অবৈধ উচ্ছেদ ও উদ্ধার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ১১টি ওয়াকফ এস্টেটের ২৮ দশমিক ২০ একর সম্পত্তি সফলভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
সরকারের এসব সময়োপযোগী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পদক্ষেপের ফলে দেশে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি, অসাম্প্রদায়িক চেতনা আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
