রাজনৈতিক সরকারের কাছে দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের তাগিদ সেনাপ্রধানের

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা :

3 Min Read
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। ছবি: আইএসপিআর
সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান শিগগিরই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিনি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে নিজের আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করে সেনাসদস্যদের শৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

বুধবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসে সেনা কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে আয়োজিত অফিসার্স অ্যাড্রেসে সেনাপ্রধান এসব বক্তব্য দেন। সভায় ঢাকার বাইরের ইউনিটগুলোর কর্মকর্তারাও ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রথমে সেনাপ্রধান বক্তব্য দেন, পরে কর্মকর্তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।

সভায় জেনারেল ওয়াকার বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মানবিক করিডোর স্থাপন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে তা একটি নির্বাচিত ও বৈধ সরকারের মাধ্যমেই হতে হবে। এই বিষয়ে জাতীয় স্বার্থ, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনসহ সার্বিক দিক বিবেচনায় রাখতে হবে।

তিনি অভিযোগ করেন, আগস্ট থেকে কিছু মহল তাকে এবং সেনাবাহিনীকে অন্যায্যভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানোর চেষ্টা করছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দেশের সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ডে সেনাবাহিনী যুক্ত হবে না, কাউকে যুক্ত হতেও দেওয়া হবে না।

সেনাপ্রধান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে সেনাবাহিনী সহযোগিতা করছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। আসন্ন ঈদে জনগণ যেন নিরাপদে উৎসব পালন করতে পারে, সে জন্যও বাহিনীর সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে নির্দেশ দেন তিনি।

জাতিসংঘের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে জেনারেল ওয়াকার জানান, এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি বা মতামতও চাওয়া হয়নি। মব ভায়োলেন্স এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এক কর্মকর্তা বরখাস্ত সেনাসদস্যদের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগগুলো জনসমক্ষে প্রকাশের বিষয়ে মত দেন। জবাবে সেনাপ্রধান জানান, এসব বিষয়ে আইএসপিআরের মাধ্যমে যথাযথভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বন্দর উন্নয়ন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, স্থানীয় জনমত ও রাজনৈতিক নেতাদের মতামত নিয়েই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত, এবং তা রাজনৈতিক সরকারের মাধ্যমেই হওয়া উচিত। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে চলমান সংস্কার সম্পর্কে তিনি বলেন, কী সংস্কার হচ্ছে সে বিষয়ে তার জানা নেই।

সভায় সেনাপ্রধান সেনাসদস্যদের দায়িত্বশীলতা, শৃঙ্খলা এবং নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতের নির্বাচন ঘিরে সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

উল্লেখ্য, এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এ বিষয়ে কোনো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয়নি। পরে যোগাযোগ করা হলে আইএসপিআর কোনো মন্তব্য করবে না বলে জানায়।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *