ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করা বাংলাদেশ পুলিশের ১৮০ সদস্যের একটি কন্টিনজেন্ট আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে দেশে ফেরত আসবে। এতে ৭৫ নারী পুলিশও রয়েছেন। মিশনের বাজেট ঘাটতির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (ইউএন–অপারেশন) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন।
বাংলাদেশি কন্টিনজেন্ট ২৬ আগস্ট কঙ্গোতে পৌঁছে প্রশিক্ষণের পর ১০ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যক্রম শুরু করেছিল। বুধবার থেকে তাদের অপারেশনাল কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। কিছু সদস্য প্রশাসনিক ও লজিস্টিক কাজ শেষ করে ফেরত আসবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কঙ্গো ছাড়া এই মুহূর্তে বাংলাদেশ পুলিশের আর কোনো কন্টিনজেন্ট জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নেই। বাজেট ঘাটতির কারণে ক্যামেরুন, সেনেগাল ও মিশরের কন্টিনজেন্টও আংশিকভাবে কমানো হবে, তবে বাংলাদেশের কন্টিনজেন্ট পুরোপুরি দেশে ফিরছে।
রয়টার্স ও এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক মাসে বিশ্বব্যাপী নয়টি মিশন থেকে অন্তত ২৫ শতাংশ শান্তিরক্ষী কমানো হবে। মূল কারণ হচ্ছে অর্থের ঘাটতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ তহবিলের অনিশ্চয়তা। এতে ১৩–১৪ হাজার সৈন্য ও পুলিশ এবং উল্লেখযোগ্য বেসামরিক কর্মী এই ছাঁটাইয়ের আওতায় পড়বেন।
বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে কাজ করে আসছে। শান্তিরক্ষী পাঠানোর দেশ হিসেবে বাংলাদেশ তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। ১৯৮৯ সাল থেকে বাংলাদেশ পুলিশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ২০২৫ সালের মে পর্যন্ত ২১ হাজারের বেশি কর্মকর্তা ২৪টি দেশে ২৬টি মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে দক্ষিণ সুদান ও মধ্য আফ্রিকায় কিছু পুলিশ সদস্য আইপিও হিসেবে কাজ করছেন।
