কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল পাচারের আশঙ্কায় সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পাশাপাশি সীমান্তের বিভিন্ন চেকপোস্টে তল্লাশি বৃদ্ধি এবং নাফ নদীতে নৌ-টহলও বাড়ানো হয়েছে।
টেকনাফে অবস্থানরত ২ বিজিবি জানায়, জ্বালানি তেল পাচার প্রতিরোধে সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ চেকপোস্টগুলোতে বিশেষ তল্লাশি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে নাফ নদীতে টহল জোরদার করা হয়েছে এবং চলাচলকারী নৌযানগুলোতেও তল্লাশি করা হচ্ছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি, যানবাহন ও নৌযানের ওপর কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে এবং গোয়েন্দা তৎপরতাও বাড়ানো হয়েছে।
চোরাচালান প্রতিরোধে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সচেতন করতে বিজিবি স্থানীয়দের নিয়ে জনসচেতনতামূলক সভার আয়োজন করছে। এসব সভার মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে জনগণের সহযোগিতা কামনা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার দুপুরে টেকনাফ জেটিঘাটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ২ বিজিবির অধিনায়ক মো. হানিফুর রহমান বলেন, দেশের জ্বালানি সম্পদ সুরক্ষায় বিজিবি সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করছে। জ্বালানি তেল পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র পাচারসহ বিভিন্ন সীমান্তসংক্রান্ত অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবি অতন্দ্র প্রহরীর মতো দায়িত্ব পালন করছে। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে আধুনিক প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হচ্ছে। ড্রোন, থার্মাল ইমেজার, রাডার, বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা, আধুনিক সিগন্যাল সরঞ্জাম, নৌযান এবং ডগ স্কোয়াড ব্যবহারের মাধ্যমে নজরদারি আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।
বিজিবি কর্মকর্তারা জানান, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থ রক্ষায় বাহিনীটি পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসকে গুরুত্ব দিয়ে আইন ও সংবিধানের আলোকে দায়িত্ব পালন অব্যাহত থাকবে।
