“দুর্যোগ প্রস্তুতিতে লড়ব, তারুণ্যের বাংলাদেশ গড়ব” প্রতিপাদ্যে বরিশালে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে সার্কিট হাউজের সম্মেলনকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বরিশালের সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন। তিনি বলেন, দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সঠিক ও সময়োপযোগী পরিকল্পনার গুরুত্ব অপরিসীম। ভালো পরিকল্পনা একটি কাজের অর্ধেক সম্পন্ন করে দেয়। দুর্যোগ মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি হ্রাসে কার্যকর কৌশল গ্রহণ জরুরি।
তিনি আরও বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত পূর্বাভাস ব্যবস্থার মাধ্যমে দুর্যোগের সময় জানমালের ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
জেলা প্রশাসক জানান, জলোচ্ছ্বাস বা বন্যার সময় মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে উদ্বুদ্ধ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বাড়িতে ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডারের মেয়াদ নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং স্কুল-কলেজে দুর্যোগ প্রস্তুতি বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলে ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব।
বরিশালকে দুর্যোগ ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে কয়েকটি পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে নগরীর নিম্নাঞ্চলের জলাবদ্ধতা দূর করতে ৫১ দশমিক ৫ কিলোমিটার খাল খননের প্রস্তুতি এবং সরু সড়কগুলো প্রশস্ত করার উদ্যোগ। এছাড়া নগরীতে ৩৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করে সেগুলোকে রেড জোন ও গ্রিন জোনে ভাগ করা হয়েছে এবং ভূমিকম্পের সময় গ্রিন জোনে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুফল চন্দ্র গোলদারের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলাউল হাসান, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বরিশাল বিভাগের উপপরিচালক মো. মানিকুজ্জামান এবং বরিশাল সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মানজুরা মুশাররফ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা রঞ্জিত কুমার সরকার।
এ সময় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
