প্রায় এক বছর আগে নির্মাণ শেষ হওয়া খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল এখনও কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। সরকারি দফতরগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে ১১৪ কোটি টাকায় নির্মিত এই হাসপাতাল হস্তান্তর হয়নি, আর জনবল নিয়োগও হয়নি। ফলে হাসপাতাল ব্যবহার উপযোগী হলেও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।
গণপূর্ত বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। বটিয়াঘাটার কৃষ্ণনগর ও ডুমুরিয়ার চকমথুরাবাদ মৌজার সংযোগস্থলে হাসপাতালের জন্য জমি নির্ধারণ করা হয়। ২০১৯ সালে জেলা প্রশাসন ৫২ কোটি টাকায় জমি অধিগ্রহণ করে গণপূর্ত বিভাগের কাছে হস্তান্তর করে।
প্রথম পর্যায়ে ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বেজমেন্ট ও একতলা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০২০ সালে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ৩৭ কোটি টাকায় ভবনের দুই থেকে পাঁচতলা নির্মাণসহ রান্নাঘর, সাবস্টেশন, পাম্প হাউজ, সীমানাপ্রাচীর ও ড্রেনসহ অন্যান্য সহায়ক কাজ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ সময়মতো সম্পন্ন হয়নি, বারবার মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয় এবং কাগজে-কলমে ২০২৪ সালের জুনে কাজ শেষ দেখানো হয়।
তবে বাস্তবে পাঁচতলা ভবনটি এখনও অরক্ষিত। প্রবেশপথে আরসিসি ঢালাই রাস্তা থাকলেও দক্ষিণদিকে সীমানাপ্রাচীর ও মেইন গেট নেই। ফলে গরু-ছাগল অবাধে চলাফেরা করছে, প্রাঙ্গণ নোংরা, এবং চুরি ও মাদকসেবীদের আড্ডার শঙ্কা রয়েছে।
গণপূর্ত বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাসান গণমাধ্যমেকে বলেন, প্রকল্পের কাজ কাগজে-কলমে সম্পন্ন হলেও হাসপাতাল বুঝে নিতে খুলনা সিভিল সার্জনকে একাধিক চিঠি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সাড়া মেলেনি।
খুলনা সিভিল সার্জন ডা. মাহফুজা খাতুন জানান, অরক্ষিত ভবন, আসবাবপত্র ও জনবল না থাকায় কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।
গণপূর্ত বিভাগ জানিয়েছে, ভবন সম্প্রসারণসহ বাকি রাস্তা, সীমানাপ্রাচীর, ড্রেন, মেইন গেট ও স্টাফ কোয়ার্টার নির্মাণে ৯৮ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায়। অনুমোদন মিলে গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।
