গুলিবিদ্ধ হলে: প্রথম ৩০ মিনিটে জীবন বাঁচাতে যা করতে হবে

নিউজনেক্সট অনলাইন :

3 Min Read

গুলিবিদ্ধ হওয়া প্রায় সবসময়ই জীবন-মৃত্যুর সংকট তৈরি করে। আহত ব্যক্তির জীবন ঝুঁকি বা স্থায়ী ক্ষতি অনেকটাই নির্ভর করে গুলির অবস্থান, ধরণ এবং চিকিৎসা পৌঁছানোর গতির ওপর। তবে প্রাথমিক সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করলে অনেক ক্ষেত্রেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

প্রথমেই যা করতে হবে

গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি বা আশপাশের কেউ আহত হলে প্রথমে তিনটি বিষয় নিশ্চিত করা জরুরি:
১. নিরাপদ স্থানে সরানো: যদি আহত ব্যক্তি হাঁটতে বা দৌড়াতে সক্ষম হন, তাকে নিরাপদ স্থানে সাহায্য করুন।
২. অস্ত্র নিরাপদ করা: দুর্ঘটনাজনিত গুলি হলে নিশ্চিত করুন, অস্ত্র আর কারো ক্ষতি করতে না পারে।
৩. জরুরি কল করা: নিরাপদে পৌঁছানোর পর ৯৯৯-এ ফোন করে জরুরি সেবার নির্দেশনা নিন। দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানোই জীবন রক্ষার সবচেয়ে বড় উপায়।

রক্তপাত বন্ধ করা

প্রাথমিকভাবে রক্তপাত থামানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রক্ত বের হওয়া স্থানে শক্ত চাপ দিন। প্রয়োজন হলে হাঁটু বা হাত দিয়ে চাপ বাড়ানো যেতে পারে।

ড্রেসিং এবং ব্যান্ডেজ ব্যবহার

পরিষ্কার কাপড়, গজ বা তোয়ালে দিয়ে ক্ষত চাপ দিয়ে ধরুন। পেশাদার টুর্নিকেট থাকলে ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে ভুলভাবে লাগালে বিপদ বাড়তে পারে।

সতর্কতা

  • গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে পানি বা খাবার দেবেন না, শক বা বমির সম্ভাবনা থাকে।
  • পা উঁচু করা সবসময় ভালো নয়; আহত ব্যক্তিকে স্বাচ্ছন্দ্য অনুযায়ী বসতে বা শুতে দিন। অচেতন হলে রিকভারি পজিশন (এক পা ভাঁজ করে কাত হয়ে শুইতে) ব্যবহার করুন।

গুলির অবস্থান অনুযায়ী করণীয়

  • বুকে: হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস বা প্রধান ধমনী ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ক্ষত প্লাস্টিক বা পরিষ্কার কাপড় দিয়ে ঢেকে দিন, শ্বাসকষ্ট বাড়লে খুলে দিন।
  • পেটে: তীব্র রক্তপাত, অঙ্গ ক্ষতি এবং সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। শক্ত চাপ দিন; জরুরি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে।
  • হাত-পা: রক্তনালী কেটে যাওয়া, স্নায়ু বা হাড় ভাঙার সম্ভাবনা। আহত অঙ্গ নাড়ানো যাবে না, শুধুই রক্তপাত থামানো দরকার।
  • ঘাড় বা মেরুদণ্ড: পক্ষাঘাত পর্যন্ত হতে পারে। রোগীকে নড়াচড়া না করতে দিন, শুধু রক্তপাত বন্ধ করুন।

গুলিবিদ্ধ হওয়ায় ক্ষতির কারণ

বুলেট শুধুমাত্র ক্ষত তৈরি করে না, এটি শরীরের ভেতরে লাফিয়ে গিয়ে অন্যান্য স্থানে আঘাত করতে পারে। ক্ষতির মাত্রা নির্ভর করে গুলির অবস্থান, আকার এবং গতির ওপর।

চিকিৎসা ও সুস্থ হওয়া

সহজ গুলিবিদ্ধ ক্ষত ৭–১০ দিনে সেরে যেতে পারে। জটিল আঘাতের ক্ষেত্রে সময় বেশি লাগে। এছাড়া মানসিক প্রভাব—দুশ্চিন্তা, ভয়, দুঃস্বপ্ন, অস্থিরতা—দীর্ঘসময় থাকতে পারে।

প্রাথমিক করণীয় সম্পন্ন করার পর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি, কারণ মূল চিকিৎসা ও সুস্থতার জন্য শুধুমাত্র প্রাথমিক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *