বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুধু ভোটের দিন নয়, এটি বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের সুযোগ। তিনি বলেন, ৫ আগস্ট যেভাবে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে পরিবর্তনের পথে নেমেছিল, ঠিক সেভাবেই ভোটের দিন সবাইকে কেন্দ্রে যেতে হবে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকা–টাঙ্গাইল–যমুনা সেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দরুন চরজানা বাইপাস এলাকায় আয়োজিত নির্বাচনি পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, বিগত সময়ে দেশে মেগা প্রকল্পের পাশাপাশি মেগা দুর্নীতির চিত্রও দেখা গেছে। গুম, খুন ও গায়েবি মামলার মতো ঘটনাও জনগণ প্রত্যক্ষ করেছে। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন আনতে হলে গণতন্ত্রকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হবে, আর তার একমাত্র উপায় হলো ভোটের মাধ্যমে জনগণের শক্তি প্রকাশ করা।
তিনি বলেন, যদি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে জবাবদিহিতামূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করা না যায়, তাহলে গণতন্ত্রের যে ভিত্তি গড়ে তোলার সুযোগ এসেছে, তা বাধাগ্রস্ত হবে। দেশের ভবিষ্যৎ কীভাবে চলবে—সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার জনগণের হাতেই থাকা উচিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি ও আনারস আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাটশিল্প পুনরুজ্জীবিত করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষকদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ এবং নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, শুধু ধানের শীষে ভোট দিলেই দায়িত্ব শেষ নয়, ভোটকেন্দ্র পাহারা দিয়েও নির্বাচন সুষ্ঠু রাখার দায়িত্ব পালন করতে হবে।
পথসভায় তারেক রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান। এ সময় টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা বক্তব্য দেন এবং উপস্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
দীর্ঘ ২১ বছর পর টাঙ্গাইল সফরে এসে তারেক রহমানের এই রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে জেলা জুড়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। জনসভাস্থলে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতি ছিল। কর্মসূচি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
