ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের গণপরিবহনে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক ও সেতু, রেল এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, আগামী ১৫ মার্চ থেকে সারা দেশে গণপরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে এবং তেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।
শুক্রবার সকালে কমলাপুর রেলস্টেশন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, জ্বালানিমন্ত্রীর কাছ থেকে এ বিষয়ে আশ্বাস পাওয়া গেছে। ফলে জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন সংকট বা ভাড়া বৃদ্ধির আশঙ্কা নেই। ঘরমুখী মানুষের ঈদযাত্রা এখন পর্যন্ত স্বস্তিদায়ক রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রেলমন্ত্রী বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সরকার আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে। ৩ মার্চ থেকে অনলাইনে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার পর বিপুল সংখ্যক যাত্রী টিকিট কেনার চেষ্টা করেন। প্রায় ৩৭ লাখ মানুষ টিকিটের জন্য চেষ্টা করলেও সক্ষমতা অনুযায়ী প্রতিদিন প্রায় ৩৬ হাজার টিকিট বিক্রি করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঈদযাত্রা সহজ করতে রেলে অতিরিক্ত ১২৪টি কোচ এবং পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেন যুক্ত করা হয়েছে। এসব ট্রেন প্রতিদিন প্রায় ৪২ হাজার অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করতে পারবে। পাশাপাশি ট্রেনের সময়সূচি ঠিক রাখতে বর্তমানে ৭৮টি লোকোমোটিভ বা ইঞ্জিন প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আরও যুক্ত করা হবে।
ট্রেনের ছাদে যাত্রী চলাচল বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, শতভাগ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হলেও ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করতে রেল কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। ঈদে ঢাকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াত সামাল দিতে পরিবহন ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে পুলিশ, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সড়ক ও রেলপথে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিভিন্ন স্থানে স্বেচ্ছাসেবকও মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। যাত্রীদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।
