গণপূর্ত অধিদপ্তরের লালমনিরহাট জেলায় কর্মরত নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. সাইফুজ্জামান চুন্নুকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার। বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত নেয়।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরাকি ভাতা পাবেন। মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম এতে স্বাক্ষর করেন।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, মো. সাইফুজ্জামান চুন্নু বর্তমানে লালমনিরহাট গণপূর্ত বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) হিসেবে চলতি দায়িত্বে রয়েছেন। এর আগে তিনি ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪-এ নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাকা গণপূর্ত বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জন্য রেকর্ড ভবন নির্মাণ প্রকল্প’-এর মূলধন অংশের ডব্লিউ-১ প্যাকেজের আওতায় অনাবাসিক ভবন খাতে কাজ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ডিপিপি, আরডিপিপি কিংবা এইচওপিইর কোনো অনুমোদন ছাড়াই বিধিবহির্ভূতভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করেন।
তদন্তে উঠে আসে, একটি প্যাকেজকে অবৈধভাবে আটটি প্যাকেজে ভাগ করে ই-জিপি পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হয় এবং এ খাতে মোট ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়। তবে এসব প্যাকেজের বিপরীতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে বিল পরিশোধ করা হলেও বাস্তবে কাজের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
প্রকল্পটির জন্য নির্ধারিত মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড ছাড়াও অন্যান্য আটটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে ২০২৩–২০২৪ অর্থবছরে অর্থ ব্যয় দেখিয়ে কাজ না করেই বিল পরিশোধ করা হয় বলে তদন্তে প্রমাণ মেলে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, এসব কার্যক্রম সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির শামিল। এ কারণে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩৯(১) অনুযায়ী মো. সাইফুজ্জামান চুন্নুকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই বরখাস্তের আদেশ শুধু একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নয়; বরং গণপূর্ত অধিদপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে চলমান অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্রকেও সামনে নিয়ে এসেছে।
