শেষ আলো নিভছে মণিহারের পর্দায়!

নিজস্ব প্রতিবেদক :

2 Min Read

যশোরের হৃদয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মণিহার সিনেমা হল একসময় ছিল স্বপ্নের ঠিকানা। শুধু যশোর নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার সিনেমাপ্রেমীরা জানত এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম এই প্রেক্ষাগৃহেই পাওয়া যায় চলচ্চিত্র দেখার আসল আনন্দ। ১,৪০০ আসনের এই আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর হলে সারা বছরই দর্শকের ঢল নামত। ঈদ হোক কিংবা সাধারণ ছুটির দিন মণিহারের পর্দায় আলো জ্বাললেই যেন শহরটা বদলে যেত উৎসবের শহরে।

কিন্তু আজ সেই দিন আর নেই। এখন শুধু ঈদের মৌসুমে সামান্য ভিড় জমে, বাকি সময় মণিহারের পর্দা যেন খালি চেয়ারের সামনে নিঃশব্দে কাঁদে। মালিক জিয়াউল ইসলাম মিঠুর কণ্ঠে এখন শুধুই বেদনার সুর, ঈদ বাদে হলে মানুষ আসে না। এত খরচ মেটানো যায় না, তাই দোকানপাট আর হোটেলের আয়ে কোনোভাবে চালাই।

দেশি ছবির অভাব, মানহীন প্রযোজনা আর বিদেশি ছবি আমদানির পথ বন্ধ সব মিলিয়ে অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে মণিহার। টলিউড তারকা জিতের অভিমান চারবার চালাতে হয়েছে, তবু দর্শক নেই বললেই চলে। কারণ সেই ছবিও এখন ইউটিউব বা টিভি খুললেই মিলছে।

১৯৮৩ সালের ৮ ডিসেম্বর যাত্রা শুরু করা মণিহারকে সাজিয়েছিলেন কিংবদন্তি চিত্রশিল্পী এসএম সুলতান। সেই শিল্পীর হাতে গড়া সৌন্দর্যের ভেতরে আজ ভেসে বেড়াচ্ছে নিস্তব্ধতা। একসময় ১৩০০ সিনেমা হলের দেশে এখন টিকে আছে মাত্র ৭০-৭৫টি। সেগুলোর তালিকায় মণিহারও ধুঁকছে শেষ নিঃশ্বাসের অপেক্ষায়।

মালিক মিঠুর অভিমান স্পষ্ট ভালো ছবি পেলে মানুষ এখনো হলে আসবে। কিন্তু মাসের পর মাস নতুন ছবি পাই না। যদি দেশি প্রোডাকশন না হয়, তাহলে আমদানির সুযোগ দিতে হবে। না হলে সিনেমা হল একে একে বন্ধ হয়ে যাবে।

মণিহার তাই এখন শুধু একটি সিনেমা হল নয়, ঢালিউডের সংকট আর অবহেলার প্রতীক। আলো-আঁধারির এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যাবে পথচলা সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *