‘মব’ তৈরি করে অস্থিরতা ছড়াচ্ছে সরকার: তারেক রহমানের অভিযোগ

3 Min Read
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অভিযোগ করেছেন, দেশের সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড ও বিশৃঙ্খলার জন্য ‘মব’ তৈরি করে সরকারই এক ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে এবং এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না। পুরান ঢাকার ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ফুটেজে হত্যাকারীকে চিহ্নিত করা গেলেও তাকে কেন এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি?

শনিবার (১৩ জুলাই) গুলশানের লেকশোর হোটেলে ছাত্রদলের আয়োজনে ‘জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান ও শহীদ পরিবার সম্মাননা’ অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ধীরে ধীরে অদৃশ্য শক্তি দৃশ্যমান হচ্ছে। যারা স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও জনগণের বিপরীতে অবস্থান নিচ্ছে, তাদের আমরা কোনো প্রশ্রয় দেব না। এই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, আমাদের যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে—তাই আমাদের সবাইকে চোখ-কান খোলা রাখতে হবে।

বিচারের প্রশ্নে বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, আমরা কখনোই বলিনি অমুককে ধরা যাবে না। বরং বরাবরই বলেছি, অপরাধী যে-ই হোক, আইন অনুযায়ী তার বিচার হওয়া উচিত। দলের কেউ যদি অন্যায় করে থাকে, তাকেও প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। কিন্তু প্রশাসন কেন তাদের ধরছে না, সেটাই প্রশ্ন।

সংলাপ প্রসঙ্গে বিএনপির ভূমিকার সমালোচনায় তিনি বলেন, পত্রিকায় দেখি বলা হচ্ছে—বিএনপি এটা মানছে না, ওটা মানছে না। যদি সব কিছু মেনেই নিতে হতো, তাহলে আলোচনার দরকার কী ছিল? আলোচনার উদ্দেশ্যই হচ্ছে মতামত দেওয়া।

তিনি বলেন, দেশ পরিচালনায় বিএনপির অভিজ্ঞতা রয়েছে। কোন সিদ্ধান্ত দেশের জন্য কল্যাণকর, তা বিএনপি জানে বলেই প্রশ্ন তোলে। দেশের স্বার্থেই আমরা আপত্তিগুলো তুলে ধরছি।

অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। তা না হলে জাতি সরকারকে ক্ষমা করবে না।

তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে কিছুটা ধৈর্য ধরুন। অন্যায় কাজ যেন কেউ না করে, সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। বিএনপি কোনো অন্যায়কে কখনোই সমর্থন করেনি।

- Advertisement -

ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুলসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

শহীদ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন—কক্সবাজারের শহীদ তানভীর সিদ্দিকীর বাবা বাদশা মিয়া, বরিশালের শহীদ তাহিদুল ইসলামের বোন ইশরাত জাহান, ঢাকা কাফরুলের শহীদ আকরাম খান রাব্বীর বাবা মো. ফারুক খান, ভোলার শহীদ মহির হোসেনের ভাই হাসনাইন এবং টাঙ্গাইলের শহীদ ইমন মিয়ার ভাই মো. সুজন।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *