পৃথিবীর যেকোনো আদালতে একই শাস্তি হতো: চিফ প্রসিকিউটর

গণঅভ্যুত্থান দমনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। একই মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মনিরুল ইসলাম, ঢাকা :

2 Min Read
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, ফাইল ছবি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ঘোষিত ঐতিহাসিক রায়ের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, মামলার সাক্ষ্য ও প্রমাণ যেকোনো আন্তর্জাতিক আদালতেও উপস্থাপন করা হলে একই ধরনের শাস্তি দেওয়া হতো।

রায় ঘোষণার পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আজ যে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, পৃথিবীর যেকোনো আদালতেও এই সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আসামিরা একই দণ্ড পেতেন। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক নীতি ও মানদণ্ড অনুসরণ করেই মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো জটিল মামলার বিচার করতে সক্ষম হয়েছে, এবং এই রায় প্রমাণ করে অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক, আইনের ঊর্ধ্বে নয়।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান দমনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। একই মামলায় রাজসাক্ষী হওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল সোমবার এ রায় ঘোষণা করেন।

মামলার বিচার চলাকালে সর্বমোট ৫৪ জন সাক্ষ্য দেন। তাদের মধ্যে গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও নিখোঁজদের পরিবারের সদস্য, প্রত্যক্ষদর্শী ও আন্দোলনে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা ছিলেন। স্টার উইটনেস হিসেবে সাক্ষ্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।

শুনানিতে প্রসিকিউশন পক্ষে অংশ নেন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামসহ একাধিক প্রসিকিউটর। অন্যদিকে পলাতক দুই আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন, এবং রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি মামুনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ।

গত ১০ জুলাই ট্রাইব্যুনাল মামলাটিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয়। পরবর্তী সময়ে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন দোষ স্বীকার করে ‘অ্যাপ্রুভার’ বা রাজসাক্ষী হিসেবে বিবৃতি দিলে তা গ্রহণ করা হয়।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, নিখোঁজসহ নানা মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে বর্তমানে দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালের মৃত্যুদণ্ড

- Advertisement -

হাসিনা-কামালের সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ

শেখ হাসিনার রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *