ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে সি-গ্রুপের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে প্রতিবেশী বাংলাদেশ ও ভারত। টুর্নামেন্টের মূল পর্বে ওঠার সম্ভাবনা দুই দলই আগেই হারালেও মর্যাদার এই লড়াইকে সামনে রেখে দুই শিবিরেই উত্তেজনা তুঙ্গে। রাত ৮টায় শুরু হতে যাওয়া ম্যাচটিকে ঘিরে সমর্থকদের মাঝেও আলাদা উচ্ছ্বাস কাজ করছে।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত প্রি-ম্যাচ সংবাদ সম্মেলনে দুই দলের কোচ ও অধিনায়কই নিজেদের জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী মনোভাব প্রকাশ করেন। দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের ‘বেঙ্গল টাইগার্স’ এবং ভারতের ‘ব্লু টাইগার্স’ নামে পরিচিত দল দুটি মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। ১৯৭৮ থেকে ২০২৫—এই সময়ে দুই দল মোট ৩২ বার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে ভারত জিতেছে ১৬টি ম্যাচে, বাংলাদেশ জয় পেয়েছে মাত্র তিনটিতে এবং ১৩টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। সর্বশেষ জয় আসে ২০০৩ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে। এরপর কেটে গেছে ২২ বছর।
বছরের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচকে সামনে রেখে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া জানান, ম্যাচটি শুধু ফুটবল নয়, দেশের আবেগ, মর্যাদা ও সমর্থকদের প্রত্যাশারও প্রতিচ্ছবি। তিনি বলেন, এটা ইমোশনাল, হাই ভোল্টেজ ম্যাচ। বছরটা যদি জয় দিয়ে শেষ করতে পারি, পুরো দেশের জন্যই ইতিবাচক হবে। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ভারতকে হারানোর লক্ষ্যও ব্যক্ত করেন অভিজ্ঞ এই মিডফিল্ডার। তার মতে, বর্তমান স্কোয়াডই বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী দল।
সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা হামজা চৌধুরীকে বিশেষভাবে প্রশংসা করেন জামাল। ছয় ম্যাচে চার গোল করা এই ফরোয়ার্ডের প্রতি আস্থাও প্রকাশ করেন তিনি। আলোচিত বাইসাইকেল কিকের গোলটিকে বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম সেরা বলেও মন্তব্য করেন জামাল।
ম্যাচে সম্ভাব্য কৌশল নিয়ে তিনি জানান, ভারতের ডিফেন্সের পেছনে থাকা স্পেস কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে বাংলাদেশ। রাকিবের গতি তুলে ধরে তিনি বলেন, রাকিবকে ঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে ভারতের ডিফেন্স ভাঙা সম্ভব।
অন্যদিকে ভারতের কোচ খালিদ জামিল জানিয়েছেন, বাংলাদেশকে হালকাভাবে দেখছে না তারা। তার ভাষায়, এটা প্রীতি ম্যাচ নয়। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট জয়।
এখন নজর থাকবে মাঠের দিকে। ২২ বছর পর ঘরের মাঠে ভারতকে হারিয়ে ইতিহাসের নতুন অধ্যায় রচনা করতে পারেন কি না হামজা-জামালরা, সেটিই দেখার অপেক্ষা।
