উদীচী ও ছায়ানটে অগ্নিসংযোগ: পুড়ে গেল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ইতিহাস

বিশেষ প্রতিনিধি :

3 Min Read

রাজধানীর তোপখানা রোডে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এখন শুধু পোড়া গন্ধ আর ছাই। একসময় যেখানে গান, নাটক আর প্রতিবাদের মহড়া চলত, সেখানে এখন পড়ে আছে পোড়া আলমারি ও ধ্বংসস্তূপ। শুক্রবার সন্ধ্যায় অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীদের আগুনে পুড়ে যায় দেশের প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম ঐতিহাসিক কেন্দ্রটি।

উদীচী কার্যালয়ে ছিল কয়েক হাজার বই, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, আর্কাইভ, কম্পিউটার এবং নাটকের অন্তত ১০টি পূর্ণাঙ্গ সেট। সংগঠনটির ৫৭ বছরের সাংগঠনিক সভার রেজল্যুশন, আন্দোলনের দলিল ও স্মৃতিচিহ্নও পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দোতলার ছোট কক্ষটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। দীর্ঘদিনের কর্মীরা প্রিয় প্রাঙ্গণের এই অবস্থায় আবেগ ধরে রাখতে পারেননি।

উদীচীর সহসাধারণ সম্পাদক (একাংশ) রহমান মুফিজ বলেন, কার্যালয়ের ভেতরের সবকিছুই পুড়ে গেছে। কিছুই উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আগুনে নষ্ট হওয়া বাদ্যযন্ত্রগুলোর মধ্যে কিছু ছিল ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় কারফিউ ভেঙে মিছিলে ব্যবহৃত—যেগুলো স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের নীরব সাক্ষী হয়ে ছিল।

ঘটনার পর এখনো উদীচী কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি এবং হামলাকারীদের পরিচয়ও জানা যায়নি।

প্রতিবাদ ও অভিযোগ

ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার উদীচীর সদস্যরা সমাবেশ ও মিছিল করেন। তারা অভিযোগ করেন, সাংস্কৃতিক আন্দোলন দমন এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হচ্ছে। সমাবেশ থেকে ওসমান হাদি হত্যার বিচার ও নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করা হয়। সন্ধ্যায় গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের ব্যানারে রাজধানীতে মশাল মিছিলও বের করা হয়।

ছায়ানটে হামলায় মামলা

এর আগে ধানমন্ডিতে ছায়ানটের ভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে অজ্ঞাত ৩০০ থেকে ৩৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলায় বাদ্যযন্ত্র, আসবাবপত্র, দুর্লভ বই ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জামসহ প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ টাকার ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ছায়ানট কর্তৃপক্ষ জানায়, হামলায় ৩০টি ইলেকট্রিক তানপুরা, আটটি হারমোনিয়াম, পাঁচ হাজারের বেশি দুর্লভ বই, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, সিসি ক্যামেরা, আসবাবপত্র ও বেশ কিছু চিত্রকর্ম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে সংগীত বিদ্যায়তন ও দাপ্তরিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

- Advertisement -

ঢাকা মহানগর পুলিশের ধানমন্ডি অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার জিসানুল হক জানান, হামলাকারীদের শনাক্তে কাজ চলছে এবং এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

বিভিন্ন মহলের নিন্দা

উদীচী ও ছায়ানটে হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) বলেছে, সরকারের নীরবতায় একটি বিশেষ গোষ্ঠী মব সৃষ্টি করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

- Advertisement -

এ ছাড়া প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে আর্টিকেল নাইনটিন ও ইন্টারন্যাশনাল নিউজ মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশন (আইএনএমএ)। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।


newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *