সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পে স্বচ্ছতার অভাব, ২০৫০ সালের লক্ষ্য ঝুঁকিতে: টিআইবি

বিশেষ প্রতিনিধি :

2 Min Read

গত ১৫ বছরে বাংলাদেশে ছয়টি সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রায় ২ হাজার ৯২৬ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় ও অনিয়ম ধরা পড়েছে। আজ বুধবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে নিজ কার্যালয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এই তথ্য প্রকাশ করে।

‘বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন টিআইবির কর্মকর্তা নেওয়াজুল মওলা ও আশনা ইসলাম। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিভিন্ন সরকারি এবং আইপিপি প্রকল্পে প্রতি মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে গড়ে ৮ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিবর্তে গড়ে ১৩ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। এভাবে ছয়টি প্রকল্পে মোট ৬ হাজার ৯৭০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে, যেখানে প্রকৃত প্রয়োজন ছিল ৪ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকা। বিশেষ করে সরকারি জমিতে নির্মিত কিছু প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণ ও ইজারার বিষয় না থাকা সত্ত্বেও প্রতি মেগাওয়াট ইউনিট স্থাপনে ১৪ কোটি ৮ লাখ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে।

টিআইবির হিসাব অনুযায়ী, ৫টি প্রকল্পে শুধুমাত্র ভূমি ক্রয় ও ক্ষতিপূরণ প্রদানে ২৪৯ কোটি টাকা দুর্নীতি হয়েছে। দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগের মাত্র ৩ দশমিক ৩ শতাংশ ব্যবহার হয়েছে। অনিয়ম ও প্রক্রিয়াগত অস্পষ্টতার কারণে কয়েকটি লেটার অব ইন্টেন্ট (এলওআই) বাতিল করা হয়েছে।

গবেষকরা আরও জানান, বর্তমানে দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিস্তৃত এলাকা ব্যবহার করে প্রায় ৫০০ মেগাওয়াট ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন সম্ভব হলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং বিনিয়োগের ঘাটতির কারণে তা বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না।

টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “বাংলাদেশের বিদ্যুৎখাতের নীতি সংক্রান্ত অসঙ্গতি ও দুর্নীতি দৃশ্যমান। নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে প্রাধান্য না দেওয়া, জীবাশ্ম জ্বালানিতে অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার অভাব দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের পথে বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। এই অবস্থা বজায় থাকলে ২০৫০ সালের নবায়নযোগ্য জ্বালানি লক্ষ্য পূরণ করা কঠিন হবে।”

বর্তমানে দেশে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা প্রায় ৯৫ শতাংশ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর মাত্র ৪ শতাংশ। টিআইবি বলেছে, সরকারের বিনিয়োগ ও প্রণোদনা নীতি না থাকায় নবায়নযোগ্য খাত দীর্ঘ সময় ধরে অবহেলিত।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *