বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার ভোর ৬টায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন।
বিএনপির মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকেও এক ফেসবুক পোস্টে জানানো হয়, “আমাদের সবার প্রিয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ সকাল ৬টায় আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন।”
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার জানাজা আগামীকাল বুধবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিত হতে পারে।
এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য ডা. জিয়াউল হক জানিয়েছিলেন, তার অবস্থা ছিল অত্যন্ত সংকটাপন্ন এবং তিনি কার্যত লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।
দীর্ঘদিন ধরেই খালেদা জিয়া আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসসহ কিডনি, লিভার, ফুসফুস, হৃদযন্ত্র ও চোখের নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। সর্বশেষ নিজ বাসভবনে অবস্থানকালে শ্বাসকষ্ট, কাশি, জ্বর ও তীব্র দুর্বলতা দেখা দিলে গত ২৩ নভেম্বর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে ২৭ নভেম্বর তাকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে নেওয়া হয়।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত খালেদা জিয়া ২০২১ সালের মে মাসে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তখন শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় তাকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসা নিতে হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের জুনে তার হৃদযন্ত্রে পেসমেকার বসানো হয়। একই সময়ে হার্ট, কিডনি ও লিভারের জটিল রোগে ভুগছিলেন তিনি। তার হৃদযন্ত্রে আগে থেকেই তিনটি ব্লক ছিল এবং একটি রিং বসানো হয়েছিল। ২০২৪ সালের জুনে বিদেশি চিকিৎসকদের মাধ্যমে লিভারের জটিল চিকিৎসাও করানো হয়।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আদালত তাকে কারাদণ্ড দেন। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি কারাগারে ও পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অন্য একটি দুর্নীতি মামলাতেও তাকে দণ্ডিত করা হয়। পরে নির্বাহী আদেশে বিশেষ শর্তে মুক্তি পেয়ে তিনি গুলশানের বাসভবনে অবস্থান করছিলেন।
২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতির নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়াকে সব দণ্ড থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি দেওয়া হয়।
তার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
