সঞ্চয়পত্রের মুনাফা হার কমানোর সিদ্ধান্ত আপাতত কার্যকর হচ্ছে না। সরকার ছয় মাসের জন্য এই সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে। এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের পাঠানো নথিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সই করেছেন।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, রোববারই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করবে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার নতুন বছরের প্রথম দিন থেকে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফা হার কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী ১ জানুয়ারি থেকে কেনা সঞ্চয়পত্রে মেয়াদ শেষে মুনাফা প্রায় সাড়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়, যা আগে ছিল প্রায় ১২ শতাংশ। ছয় মাসের জন্য এই কম মুনাফা কার্যকর থাকার কথা ছিল।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগের মুনাফা হারই আপাতত বহাল থাকছে। বর্তমানে সরকারের চার ধরনের সঞ্চয়পত্র এবং পোস্ট অফিস ফিক্সড ডিপোজিট (পিওএফডি) চালু রয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে এক হার এবং এর বেশি বিনিয়োগে তুলনামূলক কম মুনাফা দেওয়া হয়। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে পারেন।
পরিবার সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে পাঁচ বছর শেষে মুনাফা হার ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং এর বেশি বিনিয়োগে ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ অপরিবর্তিত থাকছে। পেনশনার সঞ্চয়পত্রেও একইভাবে যথাক্রমে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ ও ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ মুনাফা বহাল রাখা হয়েছে।
পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মেয়াদ পূর্তিতে মুনাফা ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ এবং বেশি বিনিয়োগে ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ আগের মতোই থাকবে। পাশাপাশি তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মুনাফা ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং বেশি বিনিয়োগে ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ নির্ধারিত থাকবে।
