চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সরকারের পরিচালন ব্যয় কমাতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সম্প্রতি জারি করা এক পরিপত্রে সরকারি খাতে বিভিন্ন ব্যয় সীমিত করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
পরিপত্রে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি কার্যক্রমে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে আনতে মোট ৯টি খাতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে। এর মধ্যে সরকারি গাড়ি ক্রয়, যানবাহনে জ্বালানি ব্যবহার, সভা-সেমিনার আয়োজনসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক খাতে ব্যয় কমানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যাতে সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় আরও শৃঙ্খলা আনা যায়।
পরিপত্র অনুযায়ী, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রয়োজন ছাড়া নতুন ব্যয় থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে বিদ্যমান সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তকে বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি সতর্কতামূলক আর্থিক ব্যবস্থাপনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এই নির্দেশনা কতদিন কার্যকর থাকবে, সে বিষয়ে পরিপত্রে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি।
৯ ক্ষেত্রে ব্যয় কমালো সরকার :
১. সরকারি গাড়িতে মাসিক ভিত্তিতে বরাদ্দকৃত জ্বালানির ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমাতে হবে।
২. সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি ক্রয়ের জন্য সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া এবং সরকারি অর্থায়নে সব বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ থাকবে।
৩. প্রশিক্ষণ ব্যয় ছাড়া অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ব্যয় ৫০ শতাংশ কমাতে হবে।
৪. সভা/সেমিনারে আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশ এবং সেমিনার/কনফারেন্স ব্যয় ২০ শতাংশ কমাতে হবে।
৫. ভ্রমণ ব্যয় ৩০ শতাংশ কমাতে হবে।
৬. সরকারি খাতে গাড়ি, জলযান, আকাশযান এবং কম্পিউটার ক্রয় শতভাগ কমাতে হবে।
৭. সরকারি কার্যালয়ে জ্বালানি/বিদ্যুৎ/গ্যাস ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমাতে হবে।
৮. আবাসিক ভবন শোভাবর্ধন ব্যয় ২০ শতাংশ এবং অনাবাসিক ভবন শোভাবর্ধন ব্যয় ৫০ শতাংশ কমাতে হবে।
৯. ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় শতভাগ কমাতে হবে।
