পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির বিরুদ্ধে ঋণ অনিয়ম, অর্থপাচার, শেয়ারহোল্ডারদের সঙ্গে প্রতারণা ও আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্তে নেমেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এ লক্ষ্যে শর্তসাপেক্ষে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে পাওয়া একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস ও বিকন গ্রুপভুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন এবং পুঁজিবাজারসংক্রান্ত গুরুতর অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ এ বিষয়ে একটি আদেশ জারি করে। একই সঙ্গে বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে তদন্ত কার্যক্রম সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন বিএসইসির পরিচালক শেখ মাহবুব উর রহমান, উপপরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম এবং সহকারী পরিচালক বিনয় দাস।
বিএসইসির মতে, পুঁজিবাজার ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় বিএফআইইউয়ের প্রতিবেদনে উল্লিখিত বেশ কয়েকটি অভিযোগ গভীরভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে গ্রুপভুক্ত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে ঋণ প্রদান, বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের উৎপাদিত পণ্য বিকন মেডিকেয়ারের নামে বাজারজাত করে শেয়ারহোল্ডারদের সঙ্গে প্রতারণা, এক প্রতিষ্ঠানের ঋণ হিসাবের অর্থ অন্য প্রতিষ্ঠানের ঋণ সমন্বয়ে ব্যবহার, ব্যক্তিগত হিসাবে অর্থ স্থানান্তর করে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ এবং ওভারড্রাফট ঋণের অর্থ শেয়ারবাজারে খাটানোর অভিযোগ।
এছাড়া পুঁজিবাজারে জালিয়াতি ও প্রতারণামূলক কার্যক্রমের বিষয়গুলোও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ, ১৯৬৯-এর ধারা ২১, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩-এর ধারা ১৭ এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (২০১৫ সালের সংশোধনীসহ)-এর ক্ষমতাবলে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটিকে আদেশ জারির তারিখ থেকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শেষ করে কমিশনের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি।
