২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের রাজনৈতিক মনোভাব ও নির্বাচনি বাস্তবতা নিয়ে এক নতুন গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রবণতা উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, সাবেক আওয়ামী লীগ সমর্থকদের একটি বড় অংশ এখন দলটি থেকে সরে এসে বিএনপির দিকে ঝুঁকছেন, আবার অনেকে বিকল্প প্রার্থীদের কথা ভাবছেন।
‘আনকাভারিং দ্য পাবলিক পালস’ শীর্ষক এ গবেষণা প্রতিবেদন বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করা হয়। কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিআরএফ) এবং বাংলাদেশ ইলেকশন অ্যান্ড পাবলিক ওপিনিয়ন স্টাডিজ (বিইপিওএস) যৌথভাবে গবেষণাটি পরিচালনা করে।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহাবুল হক। বিশেষজ্ঞ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব রিডিংয়ের অর্থনীতি বিভাগের ভিজিটিং প্রফেসর ড. এম. নিয়াজ আসাদুল্লাহ। গবেষণার মূল ফলাফল উপস্থাপন করেন লেখক ও গবেষক এবং সিআরএফ-এর স্ট্র্যাটেজিক কো-অর্ডিনেটর জাকারিয়া পলাশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটারদের অংশগ্রহণের আগ্রহ তুলনামূলকভাবে বেশি। জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের ৯০ শতাংশেরও বেশি ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। প্রায় ৮ শতাংশ ভোটার এখনো অনিশ্চিত বা ভোটে অংশ নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্তহীন। লিঙ্গ, বয়স, শিক্ষা কিংবা গ্রাম-শহরভেদে ভোটদানের আগ্রহে বড় কোনো পার্থক্য দেখা যায়নি।
গবেষণায় দুর্নীতি ও সুশাসনকে ভোটারদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রায় ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটার দুর্নীতিকে দেশের প্রধান সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিপরীতে ধর্মীয় বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়েছেন তুলনামূলক কমসংখ্যক ভোটার মাত্র ৩৫ দশমিক ৯ শতাংশ।
নেতৃত্বের ক্ষেত্রে ভোটাররা ব্যক্তিগত ক্যারিশমার চেয়ে জনদরদি, দায়িত্বশীল ও কার্যকর নেতৃত্বকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তারা এমন নেতাই চান, যারা জনগণের কথা ভাবেন এবং বাস্তবসম্মত সমাধান দিতে সক্ষম।
রাজনৈতিক তথ্যের উৎস হিসেবে টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে। অধিকাংশ ভোটার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে একাধিক তথ্যসূত্র ব্যবহার করেন।
নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগের জায়গায় ভোটাররা নির্বাচন ব্যবস্থাপনার চেয়ে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। ভয়ভীতি প্রদর্শন, জালিয়াতি ও ব্যালট দখলের আশঙ্কা সব রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের মধ্যেই রয়েছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।
দলীয় সমর্থনের পরিবর্তনের দিক থেকে প্রতিবেদনে বলা হয়, সাবেক আওয়ামী লীগ সমর্থকদের প্রায় ৪৮ শতাংশ বর্তমানে বিএনপিকে সমর্থন করছেন। অন্যদিকে, ৫২ শতাংশ ভোটার বিকল্প বা অন্য প্রার্থীদের বেছে নেওয়ার কথা ভাবছেন।
এ ছাড়া ২০০৮ সালের পর প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া ভোটারদের মধ্যে ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ জামায়াতের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থীর ভূমিকা এখনো গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন ভোটাররা। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার জানিয়েছেন, তারা প্রার্থী কিংবা প্রার্থী ও দল উভয় বিষয় বিবেচনা করে ভোট দেবেন। এর মধ্যে ৩০ দশমিক ২ শতাংশ শুধু প্রার্থীকে গুরুত্ব দেন, আর ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ প্রার্থী ও দল দুটিকেই বিবেচনায় নেন।
