রাজধানী গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মুখপাত্র ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, সৈয়দপুর বিমানবন্দর কাণ্ডকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা উচিত নয়। তিনি বলেন, এটি জামায়াতের দেউলিয়াত্ব, অনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ।
মাহদী আমিন বলেন, টানা চারদিন দেশের সব ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ থাকা অবস্থায় এত বিপুল পরিমাণ অর্থ কোনো সাধারণ ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ব্যবহার হতে পারে না। এটি স্পষ্টভাবে নির্বাচনী অনিয়ম ও দেউলিয়াত্বের প্রমাণ। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এ ধরনের অবৈধ অর্থ ব্যবহার ও ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা দলটির পূর্বের কার্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তিনি বলেন, সৈয়দপুরের ঘটনা শুধু নয়, দেশের বিভিন্ন জেলায় কুমিল্লা, নোয়াখালী, খুলনা ও ঢাকা-১৫ ও এমন অবৈধ অর্থ লেনদেন ও সহিংসতা দেখা গেছে। দলটির নেতা-কর্মীরা ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করছে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
মাহদী আমিন আরও বলেন, বগুড়া-৪ আসনে নন্দীগ্রামের হামলায় বিএনপি নেতা মাসুদ রানার চোখ গুরুতরভাবে আহত হয়েছে, যা দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ার জন্য উদ্বেগজনক। আমরা চাই প্রতিটি ঘটনা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
তিনি ভোটদানের আগে ভোটার পরিচয় নিশ্চিত করার গুরুত্বও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জাল ভোট প্রতিরোধের জন্য ভোটারদের এনআইডি, হজ/ওমরাহ বা পাসপোর্টের ছবি দেখে পরিচয় নিশ্চিত করা উচিত। নারী ভোটারদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শ্রদ্ধার সঙ্গে ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
মাহদী আমিন বলেন, “নির্বাচনে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রাখা ও সহিংসতা এড়ানো আমাদের সবার দায়িত্ব। জনগণ শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে তাদের প্রতিফলন দেখাবে। এই নির্বাচন কেবল ভোটের অধিকার নয়, দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই।”
শেষে তিনি বলেন, বিএনপির বিজয় অনিবার্য। দেশের সকল ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়ের মানুষ ইতোমধ্যেই বিএনপিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমর্থন করছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন দেশের গণতন্ত্র ও জনগণের স্বার্থ নিশ্চিত করবে।
