দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে রোববার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জেলা পরিষদগুলোর কার্যক্রম পরিচালনা এবং প্রশাসনিক তদারকি জোরদারের লক্ষ্যে এসব প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।
জানা গেছে, নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে বেশ কয়েকজন স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ব্যক্তি রয়েছেন। তাদের অনেকেই বিভিন্ন জেলায় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বা ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক সময়ে জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখা এবং সমন্বয় বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রশাসনিক প্রয়োজন বিবেচনায় সরকার এ নিয়োগ দিয়েছে। তবে শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এমন ধারণা সঠিক নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক হিসেবে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়োগ দিলে প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাদের মতে, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে কার্যকর রাখতে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালনা করাই অধিক গ্রহণযোগ্য।
স্থানীয় রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের মতে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় দলীয় নেতাদের এসব পদে বসানোর প্রবণতা নতুন নয়; অতীতেও বিভিন্ন সময়ে এমন ঘটনা দেখা গেছে।
এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন—পঞ্চগড়ে মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, দিনাজপুরে মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, রংপুরে মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, কুড়িগ্রামে সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, গাইবান্ধায় অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক, জয়পুরহাটে মাসুদ রানা প্রধান, বগুড়ায় এ কে এম আহাসানুল তৈয়ব জাকির, চাঁপাইনবাবগঞ্জে হারুনুর রশিদ, নওগাঁয় আবু বক্কর সিদ্দিক, রাজশাহীতে এরশাদ আলী, নাটোরে রহিম নেওয়াজ, মেহেরপুরে জাভেদ মাসুদ, কুষ্টিয়ায় সোহরাব উদ্দিন, ঝিনাইদহে আবুল মজিদ, যশোরে দেলোয়ার হোসেন খান খোকন, মাগুরায় আলী আহমেদ, বাগেরহাটে শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, খুলনায় এস এম মনিরুল হাসান (বাপ্পী), পটুয়াখালীতে স্নেহাংশু সরকার, ভোলায় গোলাম নবী আলমগীর, বরিশালে আকন কুদ্দুসর রহমান, ঝালকাঠিতে শাহাদাৎ হোসেন, পিরোজপুরে আলমগীর হোসেন, টাঙ্গাইলে এস এম ওবায়দুল হক, শেরপুরে এ বি এম মামুনুর রশিদ, ময়মনসিংহে সৈয়দ এমরান সালেহ, নেত্রকোনায় নূরুজ্জামান, কিশোরগঞ্জে খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান, মুন্সীগঞ্জে এ কে এম ইরাদত, নারায়ণগঞ্জে মামুন মাহমুদ, রাজবাড়ীতে আব্দুস সালাম মিয়া, গোপালগঞ্জে শরিফ রফিক উজ্জামান, মাদারীপুরে খোন্দকার মাশুকুর রহমান, শরীয়তপুরে সরদার এ কে এম নাসির উদ্দিন, সুনামগঞ্জে মিজানুর রহমান চৌধুরী, সিলেটে আবুল কাহের চৌধুরী, মৌলভীবাজারে মিজানুর রহমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিরাজুল ইসলাম, কুমিল্লায় মোশতাক মিয়া, নোয়াখালীতে হারুনুর রশিদ আজাদ, লক্ষ্মীপুরে সাহাব উদ্দিন এবং কক্সবাজারে এ টি এম নুরুল বশর চৌধুরী।
