ঈদের ছুটিতেও থামেনি বন্দর, ৫৪ হাজার টিইইউএস হ্যান্ডলিং

নিজস্ব প্রতিবেদক :

2 Min Read

পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে টানা সাত দিনের ছুটিতেও পূর্ণগতিতে কার্যক্রম চালিয়ে গেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ সময়ে কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে বন্দর।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ছুটির এই সময়ে আমদানি-রপ্তানি মিলিয়ে মোট ৫৪ হাজার ৮৯৮ টিইইউএস (২০ ফুট হিসেবে) কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছে। এর মধ্যে আমদানি কন্টেইনার ২৮ হাজার ৯৬১ টিইইউএস এবং রপ্তানি কন্টেইনার ২৫ হাজার ৯৩৭ টিইইউএস। একদিনে সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৮৬১ টিইইউএস কন্টেইনার প্রক্রিয়াজাত করা হয় ১৮ মার্চ।

চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, একই সময়ে মোট ২৫ লাখ ৮ হাজার ৬১৪ মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে এবং ৬৪টি জাহাজ বন্দরে বার্থিং ও খালাস কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। এর মধ্যে আমদানি পণ্য ছিল প্রায় ২৩ লাখ ৬১ হাজার মেট্রিক টন এবং রপ্তানি পণ্য ছিল ১ লাখ ৪৬ হাজার টনের বেশি।

তিনি আরও জানান, ১৮ মার্চ একদিনেই সর্বোচ্চ ৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৩৪ মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং করা হয়। ১৯ মার্চ সর্বাধিক ১৪টি জাহাজ পরিচালনা করা হয় এবং ঈদের ছুটির পর ২৩ মার্চ আবারও ১২টি জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ের মাধ্যমে বন্দর পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরে আসে।

ছুটির মাঝামাঝি সময়ে কার্যক্রমে সামান্য ধীরগতি দেখা গেলেও পরবর্তী দিনগুলোতে কন্টেইনার ও জাহাজ হ্যান্ডলিং উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ২৪ মার্চ বন্দরের মোট ধারণক্ষমতার তুলনায় কন্টেইনারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই ছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া পণ্য খালাস কার্যক্রমও সচল ছিল।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদের ছুটিতে জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। এর মাধ্যমে জেটি ও বহির্নোঙরে পণ্য খালাস কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি করা হয়েছে।

জ্বালানি তেলের সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জাহাজের বার্থিং ও নেভিগেশনাল সহায়তাও দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে চট্টগ্রাম ও ঢাকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করা হয় এবং জরুরি পণ্যবাহী যানবাহনের জন্য বিশেষ স্টিকার ব্যবস্থা চালু করা হয়।

বন্দর সচিব জানান, সাম্প্রতিক কর্মবিরতি ও জাহাজ আগমনের চাপের কারণে অপেক্ষমাণ সময় কিছুটা বাড়লেও বর্তমানে কার্যকর সমন্বয়ের ফলে আউটার অ্যাঙ্করেজে জাহাজের অপেক্ষার সময় শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে, যা বন্দরের জন্য একটি বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *