আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, দেশের চলমান সব ধরনের সংস্কার কার্যক্রম সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই সম্পন্ন হবে এবং ‘জুলাই সনদ’ এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৬২ ধারায় জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন বিরোধী দলীয় নেতা মো. শফিকুর রহমান।
আইনমন্ত্রী বলেন, সংবিধানকে পাশ কাটিয়ে কোনো সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই। বরং ‘জুলাই সনদ’-এর বিভিন্ন অনুচ্ছেদেই সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সংস্কার বাস্তবায়নের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। তাই সাংবিধানিক প্রক্রিয়াকেই সামনে রেখে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে।
বিরোধী দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, একদিকে তারা ১৯৭২ সালের সংবিধান অস্বীকার করছে, অন্যদিকে একই সংবিধানের অধীনেই নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছে—যা পরস্পরবিরোধী অবস্থান। তিনি দাবি করেন, সংসদের অধিবেশন আহ্বানসহ সব কার্যক্রম সংবিধান অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে।
নারী প্রতিনিধিত্বসহ ‘জুলাই সনদ’-এর বিভিন্ন নির্দেশনার বাস্তবায়ন নিয়েও বিরোধী দলের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ডেপুটি স্পিকারের পদ গ্রহণ না করা এবং সনদের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে অনীহা তাদের অবস্থানের অসঙ্গতিই তুলে ধরে।
অধ্যাদেশের বৈধতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জারি করা অধ্যাদেশ আইনের মর্যাদা পায়। এছাড়া ১৮৯৭ সালের জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জারি করা আদেশ বৈধ হিসেবে গণ্য হয়, তবে সাংবিধানিক ভিত্তি ছাড়া কোনো কিছুই আইনের মর্যাদা পেতে পারে না।
সংবিধানকে দেশের সর্বোচ্চ সামাজিক চুক্তি হিসেবে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, এটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও শহীদদের আত্মত্যাগের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি।
সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাবও দেন তিনি। সব দলের অংশগ্রহণে আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা সম্ভব বলে মত দেন মন্ত্রী এবং এ বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার জন্য স্পিকারের প্রতি আহ্বান জানান।
