গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষাকে কখনোই অপরাধ হিসেবে দেখা যায় না এ কথা স্পষ্ট করে বলেছেন সংবাদপত্র সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ-এর সম্পাদক নূরুল কবীর। তিনি বলেন, এই গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তব রূপ দিতে যেসব প্রতিষ্ঠান কাজ করে, সেগুলোকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা, আইনি কাঠামো কিংবা পেশিশক্তির মাধ্যমে নীরব করার প্রবণতা ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।
শনিবার সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক গণমাধ্যম সম্মিলনে সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) এবং সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ যৌথভাবে এ সম্মিলনের আয়োজন করে।
নূরুল কবীর বলেন, গণমাধ্যম কেবল কয়েকশ বা কয়েক হাজার সাংবাদিকের কণ্ঠস্বর নয়; বরং এটি গোটা সমাজের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি সংবাদপত্র ও অন্যান্য গণমাধ্যম সক্রিয় ও স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারে, তবে সমাজের বিভিন্ন স্তরে মৌলিক অধিকার বাধাগ্রস্ত হওয়া অনিবার্য।
সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমের ওপর হামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব আক্রমণ একটি গভীর মানসিক আঘাত বা ট্রমার সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ডেইলি স্টার-এর কার্যালয়ে হামলার ঘটনা কোনো সাধারণ ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের একটি ভবনের ভেতরে রেখে আগুন দেওয়া এবং দমকল বাহিনীকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা মধ্যযুগীয় বর্বরতারই বহিঃপ্রকাশ, যা কার্যত মানুষকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার শামিল।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আজ একটি বা দুটি পত্রিকা আক্রান্ত হয়েছে, আগামীতে এই হামলার লক্ষ্য অন্য কোনো গণমাধ্যমও হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সাংবাদিক সমাজের পাশাপাশি গোটা সমাজের ঐক্যবদ্ধ হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
গণমাধ্যম ও গণতন্ত্রের সম্পর্ক প্রসঙ্গে নূরুল কবীর বলেন, যে কোনো দেশের গণতান্ত্রিক বিকাশের সঙ্গে স্বাধীন ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের বিকাশ অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময়েও মানুষের কণ্ঠরোধ করার প্রবণতা দেখা যায়।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক গণমাধ্যমে হামলার ঘটনাগুলো এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন দেশ একটি গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক সংস্কারের পথে এগোচ্ছে। তার মতে, এসব হামলার পেছনে এমন শক্তি কাজ করছে, যারা গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ব্যবহার করে সেই চেতনার মূল মূল্যবোধকেই ধ্বংস করতে চাইছে।
এই প্রেক্ষাপটে নূরুল কবীর জোর দিয়ে বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় সম্মিলিত ও সংগঠিত প্রতিরোধই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পথ।
