শীত এলেই যে কনসার্টমুখর হয়ে ওঠে দেশের সংগীতাঙ্গন, চলতি মৌসুমে সেই চিত্র অনেকটাই ম্লান। শহর ও গ্রামজুড়ে ইনডোর–আউটডোর সংগীতানুষ্ঠানের যে ব্যস্ততা দেখা যেত, এবার তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। নিরাপত্তা উদ্বেগ ও প্রশাসনিক অনুমতির জটিলতায় গত বছরের শেষ ভাগে একাধিক কনসার্ট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন আয়োজকরা।
বাতিল হওয়া এসব আয়োজনের তালিকায় ছিল দেশীয় শিল্পীদের পাশাপাশি বিদেশি শিল্পীদের পরিবেশনাও। এর মধ্যেই গত মাসে ফরিদপুরে একটি স্কুল পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে গান গাইতে গিয়ে হামলার শিকার হন নগর বাউল জেমস। বহিরাগতদের ওই হামলার ঘটনায় তিনি গান না গেয়েই অনুষ্ঠানস্থল ছাড়েন। এ ঘটনার পর আউটডোর কনসার্ট আয়োজন নিয়ে সংগীতাঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তবে এমন বাস্তবতার মধ্যেও ঢাকায় একটি ব্যতিক্রমী আউটডোর কনসার্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ‘কুয়াশার গান’ শিরোনামের এই সংগীতানুষ্ঠান আজ শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আয়োজন করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও ‘স্পিরিটস অব জুলাই’ যৌথভাবে কনসার্টটির উদ্যোগ নিয়েছে।
শীতের আবহে দর্শক মাতাতে মঞ্চে উঠবে চারটি জনপ্রিয় ব্যান্ড—কৃষ্ণপক্ষ, আভাস, চিরকুট ও অ্যাশেজ। আয়োজকদের দেওয়া সূচি অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হবে কৃষ্ণপক্ষের পরিবেশনা। এরপর সন্ধ্যা ৭টায় আভাস, রাত ৮টায় চিরকুট এবং রাত সাড়ে ৯টা থেকে মঞ্চে পারফর্ম করবে অ্যাশেজ। তাদের পরিবেশনার মধ্য দিয়েই কনসার্টের সমাপ্তি ঘটবে।
আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘কুয়াশার গান’ কেবল বিনোদনের আয়োজন নয়; এটি একটি মানবিক উদ্যোগও। শীতের প্রকোপে অসহায় ও শীতার্ত মানুষের জন্য শীতবস্ত্র বিতরণে তহবিল সংগ্রহই এই কনসার্টের মূল লক্ষ্য।
এর আগে একই উদ্দেশ্যে গত ১১ জানুয়ারি টিএসসি মাঠে ‘সুরে বোনা সোয়েটার’ শিরোনামে আরেকটি চ্যারিটি কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা ইউনিভার্সিটি ব্যান্ড সোসাইটির আয়োজনে ওই অনুষ্ঠানে আর্থিক অনুদানের পাশাপাশি সংগ্রহ করা হয় নতুন ও পুরোনো কাপড় ও কম্বল। সেখানে পারফর্ম করেন জয় শাহরিয়ার, লালন মাহমুদ, ডি-রকস্টার শুভ, সোহান আলীসহ একাধিক শিল্পী।
শীতের কনসার্ট কমে যাওয়ার এই সময়ে ‘কুয়াশার গান’ তাই সংগীতের পাশাপাশি মানবিক বার্তাও ছড়িয়ে দেওয়ার এক ব্যতিক্রমী প্রয়াস হিসেবে দেখছেন সংগীতপ্রেমীরা।
