দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং অন্তত আগামী দুই মাসে অকটেন, পেট্রোল বা ডিজেলের কোনো সংকট হবে না বলে জানিয়েছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়।
বুধবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের মজুত সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী ডিজেলের মজুত ১ লাখ ১৩ হাজার টনের বেশি, অকটেন প্রায় ৩২ হাজার টন এবং পেট্রোল ১৮ হাজার টনের বেশি রয়েছে। এছাড়া ফার্নেস অয়েলের মজুতও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অপরিশোধিত তেল আমদানিতে কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও দেশের জ্বালানি সরবরাহে এর বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না বলে আশ্বাস দেন তিনি। সরকারের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণ পরিশোধিত (রিফাইনড) জ্বালানি তেল মজুত থাকায় সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হচ্ছে।
চট্টগ্রামে অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড-এর কার্যক্রম আংশিকভাবে সীমিত থাকলেও এটি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে জানান তিনি। বর্তমানে দুটি ইউনিট চালু রয়েছে এবং আগামী মে মাসের শুরুতেই পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন শুরু করার আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, নতুন ক্রুড অয়েলের চালান ইতোমধ্যে পথে রয়েছে এবং এপ্রিলের শেষ কিংবা মে মাসের শুরুতে দেশে পৌঁছাতে পারে। ফলে সীমিত পরিসরে হলেও শোধন কার্যক্রম চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে।
অবৈধ মজুত ও জ্বালানি তেল পাচার রোধে সরকারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান মনির চৌধুরী। গত ৩ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৯১৬টি অভিযান চালিয়ে ৩ হাজার ৫১০টি মামলা করা হয়েছে। এ সময় প্রায় ৫ লাখ ৪২ হাজার লিটার অবৈধ জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে এবং জরিমানা আদায় করা হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। এছাড়া ৪৫ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে জনগণের দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে আপাতত দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
সব মিলিয়ে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়।
