বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে দেশবাসীকে জ্বালানি ব্যবহারে সংযমী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে পারিবারিক জীবন—সব ক্ষেত্রেই অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লেও সরকার এখনো জনগণের স্বার্থে দেশে তেল-ডিজেলের দাম বৃদ্ধি করেনি। প্রতিদিন বিপুল ভর্তুকি দিয়েও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে। “জনগণের দুর্ভোগ কমাতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে এবং এই ধারা অব্যাহত থাকবে,”—যোগ করেন তিনি।
তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে অপচয় রোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, একটি চ্যালেঞ্জপূর্ণ অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
শিক্ষা খাতেও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাকেও উন্নয়নের অন্যতম শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট অনুযায়ী ঘোষিত ইশতেহার ও ‘জুলাই সনদ’-এর প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির সঞ্চালনায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, বিচারপতি এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
