শান্তি আলোচনা অনিশ্চয়তায়, ‘হুমকির’ মুখে বসবে না তেহরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

2 Min Read

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উদ্যোগ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ‘হুমকির’ মধ্যে তারা কোনো আলোচনায় বসবে না।

অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান কোনো চুক্তিতে সম্মত না হওয়া পর্যন্ত দেশটির বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ বহাল থাকবে।

যুদ্ধ পরিস্থিতি থামাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে দ্বিতীয় দফা শান্তি বৈঠকের প্রস্তুতি চলছিল। তবে দুই দেশের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি হুমকি ও দরকষাকষির কারণে এই বৈঠক অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

দুই দেশকে আলোচনায় আনতে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। এর আগে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফা বৈঠকে উভয় পক্ষ অংশ নেয়।

প্রথম দফা আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। দলে আরও ছিলেন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার।

অন্যদিকে ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ। দলে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, যিনি দুই পক্ষের সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনা করেন।

বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে জেডি ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নমনীয়তা ও সদিচ্ছা নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়েছিল, কিন্তু কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অতিরিক্ত ও অবৈধ দাবি’ থেকে সরে এসে ইরানের ‘বৈধ অধিকার’ স্বীকার করার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে সামরিক হামলা চালায়। এতে দেশটির শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যক্তিত্ব নিহত হন। পাশাপাশি হাজারো বেসামরিক মানুষ হতাহত হন।

- Advertisement -

এর জবাবে ইরান ওই অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালায়, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।

উত্তেজনা কমাতে গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দুই পক্ষ। তবে সেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষের দিকে আসায় নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সব মিলিয়ে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

- Advertisement -
newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *