ইরানে বিধ্বস্ত একটি মার্কিন ফাইটার জেটের নিখোঁজ ক্রুকে জীবিত উদ্ধারের দাবি করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার তিনি জানান, বিশেষ তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে ওই সেনা সদস্যকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, উদ্ধার হওয়া ওই ক্রু একজন ‘ওয়েপনস সিস্টেম অফিসার’, যিনি একটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর প্যারাসুটে নেমে আত্মগোপনে ছিলেন। প্রতিবেদক জেনিফার গ্রিফিন জানান, দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় প্রায় ৪৮ ঘণ্টা লুকিয়ে থেকে তিনি টিকে থাকার চেষ্টা চালান।
নিজ অবস্থান শনাক্ত করতে ওই সেনা সদস্য এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ ব্যবস্থা বা বিশেষ সংকেত ব্যবহার করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে শতাধিক মার্কিন সেনা, এলিট স্পেশাল অপারেশন ইউনিট এবং একাধিক যুদ্ধবিমানের অংশগ্রহণে বৃহৎ পরিসরের উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে যুক্ত ছিল সিআইএ ও ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড। সিআইএ আগে থেকেই ইরানের ভেতরে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালিয়ে পরিস্থিতি অনিশ্চিত করে তোলে, যা উদ্ধার অভিযানে সহায়ক ভূমিকা রাখে বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, উদ্ধার অভিযানের সময় ইসরায়েলি বাহিনী আকাশ প্রতিরক্ষায় সহায়তা দেয়, যাতে ইরানি হামলা প্রতিহত করা যায়। যদিও একজন মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, সরাসরি মার্কিন-ইরানি সংঘর্ষ হয়নি, তবে ইরানি বাহিনীকে দূরে রাখতে গুলিবর্ষণ করা হয়।
অভিযান চলাকালে কারিগরি জটিলতায় একটি সি-১৩০ হারকিউলিস পরিবহন বিমান ঘটনাস্থলে ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেটিকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়, যাতে তা প্রতিপক্ষের হাতে না পড়ে।
এদিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, নিখোঁজ পাইলটকে খোঁজার অভিযানে ব্যবহৃত একটি মার্কিন বিমান তারা ইসফাহানের দক্ষিণাঞ্চলে ভূপাতিত করেছে। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
