স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, দেশে বর্তমানে জঙ্গিবাদের কোনো অস্তিত্ব নেই। অতীতে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য এই ইস্যুকে ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কোস্টগার্ড সদরদপ্তরে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড-এর ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের উপকূলীয় ও নদীমাতৃক অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার করতে কোস্টগার্ডের জনবল ৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজারে উন্নীত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আধুনিক সরঞ্জাম, উন্নত প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দিয়ে বাহিনীকে আরও সক্ষম করে তোলা হবে।
তিনি বলেন, বিস্তীর্ণ জলসীমা ও উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্টগার্ডের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর উদ্যোগে কোস্টগার্ড আইন প্রণয়নের মাধ্যমে এই বাহিনীর কার্যক্রম শুরু হয়।
মন্ত্রী আরও জানান, দুর্গম হাওর অঞ্চল এবং সুন্দরবনসহ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলে কোস্টগার্ডের কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। যেসব এলাকায় অন্যান্য বাহিনীর পৌঁছানো কঠিন, সেখানে কোস্টগার্ডকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো হবে।
প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় বাহিনীকে আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, অপরাধীরা এখন ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। তাই কোস্টগার্ডকেও সমানভাবে প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও আধুনিক সরঞ্জামে সজ্জিত করতে হবে। এ জন্য বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং কাঠামোগত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় মোতায়েন করা সেনাসদস্যদের ধাপে ধাপে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। হঠাৎ করে পুরো বাহিনী প্রত্যাহার করা সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, খুব শিগগিরই মোতায়েনকৃত সেনাসদস্যের সংখ্যা সীমিত পর্যায়ে নামিয়ে আনা হবে। তবে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুযায়ী সতর্কতামূলক ব্যবস্থা বহাল থাকবে।
এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কোস্টগার্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
