সংযুক্ত আরব আমিরাত ওপেক ও ওপেক প্লাস জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আগামী ১ মে ২০২৬ থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে দেশটি।
দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা আমিরাত নিউজ এজেন্সি (WAM) জানিয়েছে, উৎপাদন নীতি ও ভবিষ্যৎ সক্ষমতা পর্যালোচনার পর জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনাও এ সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে।
আমিরাত বলছে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের বর্তমান চাহিদা ও পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে খাপ খাইয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আরব উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী এলাকায় অস্থিরতার কারণে জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়লেও, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক জ্বালানি চাহিদা বাড়বে বলে মনে করছে দেশটি। স্থিতিশীল জ্বালানি ব্যবস্থার জন্য নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে তারা।
১৯৬৭ সালে ওপেকে যোগ দেওয়ার পর থেকে বৈশ্বিক তেলবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছিল আমিরাত। তবে নতুন এই সিদ্ধান্তকে তারা নীতিগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবে দেখছে, যা বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াবে।
দেশটি জানিয়েছে, ওপেক ছাড়লেও তারা দায়িত্বশীল উৎপাদক হিসেবে বৈশ্বিক বাজারে ভূমিকা রাখবে। চাহিদা ও বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়ানো হবে।
আমিরাত আরও বলেছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে বৈশ্বিক বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না। বরং পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা বাড়বে।
একই সঙ্গে ওপেক ও ওপেক প্লাস জোটের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আমিরাত বলেছে, ভবিষ্যতে তাদের নীতি জাতীয় স্বার্থ, বিনিয়োগকারী, অংশীদার এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের প্রয়োজনের ভিত্তিতেই পরিচালিত হবে।
এছাড়া তেল, গ্যাস, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও স্বল্প-কার্বন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি খাতের রূপান্তরে অবদান রাখার কথাও জানিয়েছে দেশটি। – গালফ নিউজ
