দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘদিন অচল বা পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা বিমানবন্দরগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। সংস্থাটির সাম্প্রতিক বোর্ডসভায় এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বেবিচকের কর্মকর্তারা বলছেন, আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়ানো, অভ্যন্তরীণ বিমান পরিবহন সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে দেশের চারটি বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে— হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মর্যাদা পাওয়া কক্সবাজার বিমানবন্দর। এর বাইরে সৈয়দপুর, যশোর, রাজশাহী ও বরিশালসহ কয়েকটি বিমানবন্দর থেকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে।
তবে দেশের অনেক সম্ভাবনাময় অঞ্চল এখনো আকাশপথের বাইরে থাকায় সেসব এলাকায় বিনিয়োগ ও পর্যটনের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ প্রেক্ষাপটে বোর্ডসভায় অচল বিমানবন্দরগুলো পুনরায় চালুর সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। জানা গেছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নির্মিত লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, ঈশ্বরদী ও কুমিল্লা বিমানবন্দর দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া বগুড়া স্টলপোর্ট, বাগেরহাটের খানজাহান আলী বিমানবন্দর ও পটুয়াখালী স্টলপোর্টও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। শমশেরনগর বিমানবন্দর বর্তমানে সামরিক ব্যবহারে থাকলেও ভবিষ্যতে বেসামরিক ব্যবহারের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হবে।
বেবিচকের একাধিক কর্মকর্তা জানান, এসব বিমানবন্দর পুনরায় চালু করা গেলে দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগ সহজ হবে। পাশাপাশি শিল্প, কৃষি ও পর্যটন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বোর্ডসভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, ধাপে ধাপে অচল বিমানবন্দরগুলো চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হবে। এর অংশ হিসেবে প্রতিটি বিমানবন্দরের সম্ভাব্যতা যাচাই (সম্ভাব্যতা সমীক্ষা) করা হবে। সংশ্লিষ্ট এলাকার জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক কার্যক্রম, পর্যটন সম্ভাবনা ও যোগাযোগব্যবস্থা বিবেচনায় অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে।
অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়েছে বগুড়া, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, ঈশ্বরদী, শমশেরনগর, খানজাহান আলী, কুমিল্লা ও পটুয়াখালী বিমানবন্দরকে।
বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর আবু সাঈদ মেহবুব খান বলেন, প্রাথমিকভাবে আটটি বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এগুলো বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য উপযোগী কি না, তা যাচাই করা হবে। এরপর একটি প্রস্তাব বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব বিমানবন্দর চালু করা গেলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে পর্যটনসমৃদ্ধ এলাকাগুলোতে বিমান যোগাযোগ চালু হলে দেশি-বিদেশি পর্যটক বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে।
তবে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। তাই প্রকল্পভিত্তিক ব্যয় ও সম্ভাব্য লাভ বিশ্লেষণ করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।
