রেকর্ড মুনাফার পরও প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স বোনাস না পাওয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি জায়ান্ট স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের হাজার হাজার কর্মী আন্দোলনে নেমেছেন। ইউনিয়নভুক্ত প্রায় ৪০ হাজার শ্রমিক ১৫ শতাংশ বোনাসের দাবিতে চাপ বাড়াচ্ছেন। দাবি পূরণ না হলে আগামী মাস থেকে পূর্ণাঙ্গ ধর্মঘটে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বেতন-ভাতা নিয়ে আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় ২১ মে থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত টানা ধর্মঘটের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহে পিয়ংট্যাকের সেমিকন্ডাক্টর কমপ্লেক্সে নৈশকালীন শিফটে আংশিক ধর্মঘট পালন করেন কর্মীরা।
শ্রমিকদের দাবি, ওই কর্মসূচির প্রভাবেই ফাউন্ড্রি উৎপাদন ৫৮ শতাংশ এবং মেমরি চিপ উৎপাদন ১৮ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। যদিও এ বিষয়ে কোম্পানির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, দীর্ঘমেয়াদি ধর্মঘট হলে উৎপাদন ব্যাহত হয়ে স্যামসাংয়ের প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ক্ষতি হতে পারে। বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর বাজারে প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে এটি কোম্পানিটির জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্পমন্ত্রী কিম জং-কওয়ান। এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, স্যামসাংয়ের অর্জিত মুনাফা শুধু কোম্পানির নয়, এটি পুরো দেশের অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত।
মন্ত্রী জানান, এই সাফল্যের পেছনে দেশের অবকাঠামো, সহযোগী প্রতিষ্ঠান, লাখো ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী এবং জাতীয় পেনশন তহবিলের অবদান রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সেমিকন্ডাক্টর খাতে বর্তমান প্রতিযোগিতার মধ্যে বড় ধরনের ধর্মঘট পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে।
তবে তিনি স্পষ্ট করেন, এই বক্তব্য কোনো পক্ষকে প্রভাবিত করার জন্য নয়। বরং বর্তমান পরিস্থিতিতে শ্রমিক ইউনিয়ন ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানে পৌঁছানোর আহ্বান জানান তিনি।
শ্রমিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দাবি পূরণ না হলে কর্মসূচি আরও কঠোর করা হতে পারে। এতে বৈশ্বিক প্রযুক্তি সরবরাহ শৃঙ্খলেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
