‘আমি ভোটে হারিনি, পদত্যাগ করব কেন’

নিউজনেক্সট অনলাইন :

2 Min Read
সংবাদ সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ তৃণমূলের অন্য নেতারা। ছবি: আনন্দবাজার পত্রিকা

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ফল প্রকাশের পর প্রথমবার আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খুললেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার কলকাতার কালিঘাটে নিজের বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি নির্বাচন প্রক্রিয়া, ভোট গণনা এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমি ভোটে হারিনি, তাহলে পদত্যাগ কেন করব? তিনি দাবি করেন, ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বহু ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা নির্বাচনী ফলকে প্রভাবিত করেছে।

তার ভাষায়, এরকম ভোট আগে কখনও দেখিনি। আমরা হারিনি, তাই রাজভবনেও যাইনি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তৃণমূল কংগ্রেসকে মূল প্রতিপক্ষ বিজেপি নয়, বরং নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের প্রধানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। মমতার অভিযোগ, ভোট পরিচালনায় পক্ষপাত ছিল এবং ‘ তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী প্রায় ১০০টি আসনে অনিয়ম হয়েছে।’ তবে তিনি বলেন, এসব অভিযোগের প্রমাণ সংরক্ষণ করা হয়েছে, যদিও কোথায় অভিযোগ করা হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও দাবি করেন, ভোট গণনার শুরুতেই পরিকল্পিতভাবে ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়েছে। প্রথম দুই-তিন রাউন্ডে ইচ্ছাকৃতভাবে গণনা দেখানো হয়েছে, যাতে কর্মীদের মনোবল ভেঙে যায়, বলেন তিনি।

মমতার অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে পরিবেশ প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়েছে এবং বিরোধী শক্তিকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনায় ‘ইন্ডিয়া’ জোটকে আরও শক্তিশালী করা হবে। এখন আমি মুক্ত পাখি। মানুষের জন্য কাজ করব। রাস্তায় ছিলাম, রাস্তায় থাকব, বলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তার পাশে উপস্থিত ছিলেন দলের শীর্ষ নেতারা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, ডেরেক ও’ব্রায়েন, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

মমতা আরও জানান, ফল প্রকাশের পর কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধী তাকে ফোন করে পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন।

- Advertisement -

সব মিলিয়ে, নির্বাচনী ফলের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বক্তব্য পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতির উত্তাপ আরও বাড়াতে পারে।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *