যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে ইরান। একই সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। পাল্টা হামলা হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির বরাতে এএফপি জানিয়েছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে পাঠানো জবাবে ইরান ‘সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি’ এবং বিশেষ করে লেবাননের পরিস্থিতির অবসানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। পাশাপাশি নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি সপ্তাহেই ইরানের জবাব প্রত্যাশা করেছিলেন। তবে তার আগেই উপসাগরীয় অঞ্চলে একাধিক ড্রোন হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এর মধ্যে কাতারের একটি বন্দরের কাছে একটি মালবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা রয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতও তাদের ভূখণ্ডে ড্রোন হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে। অভিযোগ সত্য হলে এটি চলতি মাসে দ্বিতীয় এমন ঘটনা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, “আলোচনা মানেই আত্মসমর্পণ নয়, ইরান কখনো শত্রুর কাছে মাথা নত করবে না।”
অন্যদিকে ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রধান আলী আবদুল্লাহি দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করে নতুন নির্দেশনা পেয়েছেন বলে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, শত্রুর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একটি বাণিজ্যিক জাহাজ মেসাইদ বন্দরের কাছে ড্রোন হামলার শিকার হয়। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টার জানায়, অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
এদিকে কেউ এখনো এসব হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে ইরানি সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, হামলার শিকার জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্র-সম্পর্কিত।
উপসাগরীয় অঞ্চলে একের পর এক ড্রোন ও নৌযান হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক শিপিং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে, যা বিশ্ব তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে বিবেচিত।
