দেশে গত ১৬ মাসে অন্তত ৫৮০ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে এবং হত্যা করা হয়েছে ৪৮৩ জনকে। একই সময়ে আরও ৩১৮ শিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
সংগঠনটির তথ্যমতে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট ১ হাজার ৮৯০ শিশু ও কিশোরী বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৪০৭ জন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, দেশে ধারাবাহিকভাবে শিশু হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনা বাড়লেও শিশু সুরক্ষায় বিদ্যমান ব্যবস্থাগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। বিচারহীনতার সংস্কৃতি, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং দুর্বল আইন প্রয়োগ পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলছে।
সম্প্রতি কয়েকটি আলোচিত ঘটনার উল্লেখ করে সংগঠনটি জানায়, গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সাত বছরের রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। এর আগে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে ১০ বছরের আছিয়া আক্তার, ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে চার বছরের লামিয়া আক্তার এবং সিলেটে চার বছরের ফাহিমা আক্তার হত্যার ঘটনাও দেশজুড়ে আলোড়ন তোলে।
এইচআরএসএস বলেছে, শিশু হত্যা ও ধর্ষণের মতো অপরাধ প্রতিরোধ করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্ব। এসব ঘটনায় দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
একই সঙ্গে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের যথাযথ প্রয়োগ, ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা, বিনামূল্যে আইনি সহায়তা, চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শিশুদের জন্য নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়; সামাজিক প্রতিরোধ, পারিবারিক সচেতনতা ও মানবিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণও জরুরি।
