মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় এখন দর্শনার্থীদের সবচেয়ে বড় আকর্ষণের নাম ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। বিরল অ্যালবিনো মহিষটিকে একনজর দেখতে ঈদুল আজহার দিনও ভিড় করেছেন অসংখ্য মানুষ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এই মহিষটিকে নিয়ে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর সেটি যেন এক ধরনের ‘সেলিব্রিটি’ প্রাণীতে পরিণত হয়েছে। সাদা লোম আর অদ্ভুত চুলের গড়নের কারণে অনেকেই মহিষটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেহারার মিল খুঁজে পেয়েছেন। সেখান থেকেই তার নাম—‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’।
জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর মো. আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, ঈদের দিন চিড়িয়াখানায় আসা অধিকাংশ দর্শনার্থীর আগ্রহ ছিল এই মহিষটিকে ঘিরেই। অন্য খাঁচাগুলোর সামনে তেমন ভিড় না থাকলেও ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পকে’ দেখতে মানুষের কৌতূহলের কমতি ছিল না।
চিড়িয়াখানার পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ঈদুল আজহার দিনে সাধারণত দর্শনার্থী কম থাকে। তবে এবারও প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মানুষ চিড়িয়াখানায় এসেছেন, আর তাদের মূল আকর্ষণ ছিল এই অ্যালবিনো মহিষ।
গত বুধবার রাত ১১টার দিকে মহিষটিকে মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় আনা হয়। এর আগে নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ার রাবেয়া এগ্রো ফার্মে লালন-পালন করা হচ্ছিল প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের প্রাণীটিকে।
প্রাণিসম্পদ খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, অ্যালবিনো বা গোলাপি রঙের মহিষ বাংলাদেশে পুরোপুরি নতুন নয়। তবে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-এর মতো চুলের গঠন বা মুখাবয়বের মিল খুব একটা দেখা যায় না।
কোরবানির জন্য প্রস্তুত রাখা হলেও শেষ মুহূর্তে প্রাণিটি রক্ষা পায়। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে মহিষটিকে কসাইখানার বদলে জাতীয় চিড়িয়াখানায় পাঠানো হয়।
ভাইরাল হওয়ার পর দূরদূরান্ত থেকে মানুষ সেটিকে দেখতে খামারে ভিড় করেন। দেশীয় গণমাধ্যমের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও মহিষটি নিয়ে প্রকাশিত হয় নানা প্রতিবেদন। এমনকি ট্রুথ সোশ্যালেও এ নিয়ে পোস্ট করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
