ঈদের আনন্দঘন সময়েও দেশের বিভিন্ন জেলায় সড়ক ও রেল দুর্ঘটনায় অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব দুর্ঘটনায় শিশু, কিশোর, তরুণ ও বিভিন্ন বয়সের মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। কেউ ঈদ করতে বাড়ি ফিরছিলেন, কেউ পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে বের হয়েছিলেন, আবার কেউ কর্মস্থলে ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন।
বুধবার (২৭ মে) সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সন্ধ্যা পর্যন্ত গোপালগঞ্জ, পটুয়াখালী, দিনাজপুর, ফরিদপুর, গাইবান্ধা, নড়াইল, টাঙ্গাইল, মাদারীপুর ও নরসিংদীতে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
গোপালগঞ্জে সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনসহ পাঁচজন নিহত হন। ঢাকা থেকে পিরোজপুরের নাজিরপুরে ঈদ করতে যাওয়ার পথে ঢাকা–খুলনা মহাসড়কের বেদগ্রাম এলাকায় বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে সোহাগ (৪০), তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী খাদিজা বেগম ও ছয় বছরের ছেলে আহমদ আলী ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ ঘটনায় আরও দুইজন নিহত ও অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।
পটুয়াখালীর গলাচিপায় মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার সংঘর্ষে দুই তরুণ নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন মোহাম্মদ আল ফয়সাল (২২) ও তামিম ইকবাল (১৬)। তারা ঈদের সকালে ঘুরতে বের হয়েছিলেন।
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে মায়ের সঙ্গে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় চার বছরের দুই শিশু—আব্দুল্লাহ ও আরিফা—নিহত হয়েছে। আহত অবস্থায় তাদের মা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ ও পলাশবাড়ীতে পৃথক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হন। এর মধ্যে একটি মোটরসাইকেলকে বেপরোয়া যান ধাক্কা দিলে এক নারী নিহত হন এবং বাসচাপায় আরও দুইজনের মৃত্যু হয়।
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত এবং আরও দুইজন আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা বলছেন, অতিরিক্ত গতি দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
নড়াইলে বাস ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে এক তরুণের মৃত্যু হয় এবং একজন আহত হন। টাঙ্গাইলের সখীপুরে একই ধরনের দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন এক কলেজছাত্র।
মাদারীপুরের শিবচরে পদ্মা সেতু সংলগ্ন এক্সপ্রেসওয়েতে বাস থেকে ছিটকে পড়ে একজন নিহত হন।
এদিকে নরসিংদীতে রেলস্টেশনে ট্রেনের ধাক্কায় মা ও তার ১৮ মাস বয়সী শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ঈদের নতুন জামা কিনে বাড়ি ফেরার পথে তারা দুর্ঘটনার শিকার হন বলে জানা গেছে।
রেলওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, স্টেশনে একটি ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দ্রুতগতির কক্সবাজার এক্সপ্রেস অতিক্রম করার সময় রেললাইন পার হতে গিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
ঈদের সময় একের পর এক প্রাণহানির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
