যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তিকে কেন্দ্র করে ‘গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি’র গণপ্রতিবাদ কর্মসূচিতে চুক্তির কঠোর সমালোচনা করেছেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেন, এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশ সামরিক, রাজনৈতিক ও অস্তিত্বগতভাবে ‘ভয়াবহ দাসত্বের’ মধ্যে পড়তে পারে।
রোববার বিকেলে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ‘দেশবিরোধী মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি’ বাতিলের দাবিতে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন আনু মুহাম্মদ।
বক্তব্যে তিনি বলেন, চুক্তির শর্তগুলো বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকর এবং এতে দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের স্বার্থ হুমকির মুখে পড়বে। তাঁর অভিযোগ, চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এবং বাংলাদেশের ওপর নানা বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।
আনু মুহাম্মদ আরও দাবি করেন, ইতোমধ্যে কিছু ক্ষেত্রে চুক্তির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে, যার মধ্যে বিমান কেনা ও এলএনজি আমদানির বিষয়ও রয়েছে। এতে জ্বালানি নিরাপত্তা ও দেশীয় উৎপাদন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, চুক্তির ফলে কৃষি, পোল্ট্রি ও ডেইরি খাতের কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়বে এবং মান পরীক্ষার মতো বিষয়েও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সীমিত হয়ে আসতে পারে। পাশাপাশি রাজস্ব আয় কমে গিয়ে জনগণের ওপর করের চাপ বাড়বে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আনু মুহাম্মদ অভিযোগ করেন, সংসদে আলোচনা ছাড়াই চুক্তিটি করা হয়েছে এবং এতে জাতীয় স্বার্থ উপেক্ষিত হয়েছে। তিনি চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়ে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিচার দাবি করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক রুশাদ ফরিদী কর্মসূচিতে বলেন, চুক্তিটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে এবং এর কিছু অংশ সামরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বলে তাঁর আশঙ্কা রয়েছে।
সভায় আরও বক্তব্য দেন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির নেতারা। তাঁরা চুক্তিটি জনসমক্ষে প্রকাশ ও সংসদে আলোচনার দাবি জানান।
চাইলে এর জন্য শক্তিশালী শিরোনামও তৈরি করে দিতে পারি।
