তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি ও বিনিয়োগ বাড়াতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ৫০০ কোটি টাকার তহবিল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকার বলছে, এই খাতকে ভবিষ্যতে অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তব্যে এ ঘোষণা দেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের জিডিপিতে আইসিটি ও টেলিযোগাযোগ খাতের অবদান মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশ। পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে এ অবদান ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিকাশে সাশ্রয়ী ও উচ্চগতির ইন্টারনেট নিশ্চিত করতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দর, রেলস্টেশন ও আন্তঃনগর ট্রেনে উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধা চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন ফোর-জি সংযোগ ও ব্রডব্যান্ড সেবাও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
সরকার আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের ৯০ শতাংশ মানুষের কাছে ফাইভ-জি সেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। এ ছাড়া শহর ও গ্রামে উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট বিস্তারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ডিজিটাল সেবা সহজ করতে ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডি, ওয়ান ওয়ালেট’ এবং ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই) চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স শিল্পে দক্ষতা বাড়াতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে বাংলাদেশকে একটি বৈশ্বিক ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনকেন্দ্রে রূপান্তরের লক্ষ্য রয়েছে।
প্রস্তাবিত ৫০০ কোটি টাকার তহবিল থেকে স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্সিং, কনটেন্ট ক্রিয়েশন এবং এআইভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তা দেওয়া হবে। বিশেষভাবে নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা সৃষ্টি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করবে এবং ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
