বাজেটে শুল্ক বাড়ছে বাইসাইকেল-সিগারেটসহ নানা পণ্যে, বাড়তে পারে দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক :

2 Min Read

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বাইসাইকেল, সিগারেট, তেলচালিত গাড়ি, ট্রান্সফরমার ও বিভিন্ন আমদানিনির্ভর পণ্যে শুল্ক ও কর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এটি তাঁর প্রথম বাজেট।

বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, স্থানীয় শিল্প সুরক্ষায় বাইসাইকেলের যন্ত্রাংশ ‘ফ্রি হুইল’ আমদানিতে শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রয়েছে, যা বাজারে বাইসাইকেলের দাম বাড়াতে পারে।

তামাকজাত পণ্যের মধ্যে নিকোটিন গ্র্যানুলস ও পাউচের ওপর সম্পূরক শুল্ক ৩০০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি সিগারেটের ন্যূনতম খুচরা মূল্যও বাড়ানো হয়েছে, যা ধূমপায়ীদের ব্যয় বাড়াবে।

তেলচালিত আমদানি করা গাড়ির ওপর করভার বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ১২০০ থেকে ১৬০০ সিসি ইঞ্জিনক্ষমতার গাড়ির ক্ষেত্রে করভার প্রায় ১৫৬ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে এসব গাড়ির ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা যায়।

এ ছাড়া ছোট ক্ষমতার ট্রান্সফরমার আমদানিতে শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। ওয়াশিং মেশিন আমদানিতে নতুন করে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যা বিদেশি পণ্যের দাম বাড়াতে পারে।

বিভিন্ন বিদেশি খাদ্যপণ্য, যেমন কনফেকশনারি, কফি ও প্রস্তুত খাবারের আমদানিতে শুল্কায়ন মূল্য বাড়ানো হয়েছে। কাজুবাদাম, পাঙাশ মাছের ফিলেট, প্রাকৃতিক মধু ও সুপারি আমদানিতেও শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।

এ ছাড়া কম্পোজিট এলপিজি সিলিন্ডার আমদানিতে ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। ফলে বিদেশি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বাড়তে পারে। একইভাবে টাইলস, স্যানিটারিওয়্যার, মোটর, মাইক্রোওয়েভ ওভেন ও খেলনাসহ বিভিন্ন আমদানিনির্ভর পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাজেট সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কর ও শুল্ক বৃদ্ধির মাধ্যমে একদিকে স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া এবং অন্যদিকে রাজস্ব আয় বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তবে এসব সিদ্ধান্তের প্রভাব সরাসরি ভোক্তা পর্যায়ে পড়তে পারে।

- Advertisement -

প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ। আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজেট বাস্তবায়নের পর বাজারে এসব পণ্যের দামে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, সেদিকে নজর থাকবে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *