দুর্বল হয়ে পড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান পুনরুদ্ধারে চলতি অর্থবছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে সরকার। একই সঙ্গে ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো ও আমানতকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় নানা সংস্কার উদ্যোগের কথাও জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব তথ্য তুলে ধরেন।
অর্থমন্ত্রী জানান, দুর্বল ব্যাংকের পুনঃমূলধনীকরণ ও আমানতকারীদের অর্থ ফেরত নিশ্চিত করতে এই অর্থ ব্যয় করা হবে। ইতোমধ্যে পাঁচটি দুর্বল ব্যাংক একীভূত করে একটি ব্যাংক গঠন করা হয়েছে, যেখানে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা মূলধন জুগিয়েছে। পাশাপাশি আরও কিছু ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠনে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, অতীতে অনিয়ম, জালিয়াতি ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে ব্যাংক খাত দুর্বল হয়ে পড়েছে। এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠতে ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় রাজনৈতিক প্রভাব কমানো, জবাবদিহিতা বাড়ানো এবং আইনি সংস্কার করা হচ্ছে।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, ঋণ অনুমোদন ও পুনঃতপশিলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে ব্যাংক খাতকে টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো হবে।
সরকারের লক্ষ্য হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, একটি আধুনিক ও স্থিতিশীল আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করবে।
এ ছাড়া ব্যাংকনির্ভর অর্থায়নের চাপ কমাতে বিকল্প উৎস হিসেবে বন্ড মার্কেট, মিউচুয়াল ফান্ড, গ্রিন বন্ড ও সুকুকসহ দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংক খাতে আস্থা ফেরাতে সংস্কার উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর কার্যকর বাস্তবায়নই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
