দাভোস সম্মেলন ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ব্যস্ত সূচি নিয়ে চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক :

3 Min Read
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি

চার দিনের সরকারি সফরে চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে তিনি দুই দিনের সফরে মালয়েশিয়া যাবেন। পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, আগামী ২১ ও ২২ জুন মালয়েশিয়া সফর শেষে ২৩ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত চীন সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী।

আজ শনিবার সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্রসচিব। তিনি বলেন, চীন সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীর সংখ্যা আপাতত ২৮ জন নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সফরসঙ্গী সংখ্যা যৌক্তিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

চীন সফরকালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও চুক্তি সই হতে পারে বলে আশা করছে সরকার। এর মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক, দুটি চুক্তি, একটি কর্মপরিকল্পনা এবং একটি প্রটোকল অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

পররাষ্ট্রসচিব জানান, মালয়েশিয়া সফর শেষে ২২ জুন সন্ধ্যায় চীনের দালিয়ান শহরে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। পরদিন ২৩ জুন বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সামার দাভোস সম্মেলনে অংশ নেবেন তিনি। এ সময় বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে তাঁর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।

সামার দাভোসের একটি অধিবেশনে ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ’ শীর্ষক আলোচনায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। একই দিন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি।

২৪ জুন সামার দাভোসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বেইজিংয়ে যাবেন। সেখানে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে অবস্থান করবেন তিনি।

২৫ জুন বেইজিংয়ে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী ও এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। একই দিন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’-এ অংশ নিয়ে তিনি চীনা বিনিয়োগকারীদের সামনে বাংলাদেশের সম্ভাবনা তুলে ধরবেন।

একই দিনে গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে একাধিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে।

২৬ জুন ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে তাঁর বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ছাড়াও আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।

- Advertisement -

সফরের শেষ দিনে বেইজিংয়ের তিয়ানআনমেন স্কয়ারে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একই দিন ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

পররাষ্ট্রসচিব আশা প্রকাশ করেন, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগ সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে। তিনি জানান, চীনের বেসরকারি খাতকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সামরিক সহযোগিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে, তবে এ সফরে সামরিক ক্রয়-বিক্রয় বড় কোনো আলোচ্য বিষয় নয়।

- Advertisement -

সরকার আশা করছে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর হবে এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *