কক্সবাজার সৈকতের ২০০ কোটি টাকার সরকারি জমি দখলের চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার:

3 Min Read

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের ‘সুগন্ধা পয়েন্টে’ প্রায় ২০০ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি জমি দখলের চেষ্টায় সক্রিয় একটি ভূমিদস্যু চক্র। ভুয়া খতিয়ান ও হাইকোর্টের মিথ্যা আদেশ ব্যবহার করে ২ একর ৩০ শতাংশ সরকারি জমিতে দোকান নির্মাণ করছে চক্রটি। তবে জেলা প্রশাসন ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) সরেজমিনে তদন্ত করে জমিটি সরকারি বলে নিশ্চিত হওয়ার পর নির্মাণকাজ বন্ধ ঘোষণা করেছে।

জমির চারপাশ টিন দিয়ে ঘেরা, প্রবেশপথে ঝুলছে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড, যাতে লেখা—”এই প্রতিষ্ঠান সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, সংরক্ষিত এলাকা, উন্নয়নকাজ চলিতেছে, বিনা অনুমতিতে প্রবেশ নিষেধ”। মাঠপর্যায়ের তথ্য বলছে, সেখানে ৮০ থেকে ১০০টি দোকানের নির্মাণকাজ চলছিল, প্রতিটির আয়তন ৮০ বর্গফুট।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নিজাম উদ্দিন আহমেদ জানান, “জমিটি সরকারি খাসজমি। ভুয়া কাগজ তৈরি করে তা দখলের চেষ্টা চলছিল। রোববার কাজ বন্ধ করা হয়েছে, সোমবার স্থাপনাগুলো সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। না মানলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই দখলপ্রচেষ্টার পেছনে রয়েছেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের কক্সবাজার জেলা শাখার সহসভাপতি ওবায়দুল হাসান। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙিয়ে সৈকতের বিভিন্ন স্থানে জমি দখল করে চলেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে পূর্বেও সহিংসতা ও দখলবাজির একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

ভুয়া খতিয়ান ও স্বাক্ষর জালিয়াতি

দখলের জন্য ব্যবহৃত দলিলে কক্সবাজার সদর উপজেলার তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফ উল্লাহ নিজামীর স্বাক্ষর রয়েছে, যেটি জাল বলে দাবি করেছেন তিনি নিজেই। বলেন, “আমার স্বাক্ষর জাল করে খতিয়ান তৈরি করা হয়েছে, এ বিষয়ে থানায় জিডি করা হয়েছে।”

ভূমি অফিসের নাজির মোহাম্মদ আলমগীর ও নকলকারক মো. আয়াছের নামেও দলিল প্রস্তুতে স্বাক্ষর জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। অফিস থেকে জানানো হয়, প্রকৃত খতিয়ানে ‘সচ্চিদানন্দ সেনগুপ্ত’ নামে কোনো মালিকের অস্তিত্বই নেই।

কক্সবাজার সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন সুলতানা বলেন, “ভুয়া খতিয়ান সৃজন করে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছিল। তার ভিত্তিতে ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞার আদেশ এলেও জমির প্রকৃত মালিকানা যাচাই করতে গিয়ে বিষয়টি ফাঁস হয়।”

এই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১০ নভেম্বর কক্সবাজার সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়। অভিযুক্তরা হলেন: কক্সবাজার পৌরসভার হাসপাতাল সড়কের সচ্চিদানন্দ সেনগুপ্ত ও ঈদগাঁও উপজেলার পালাকাটার মো. শফিক।

- Advertisement -

প্রশাসনের ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ ব্যবস্থা

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উপনগর পরিকল্পনাবিদ মো. তানভীর হাসান রেজাউল বলেন, “যেকোনো স্থাপনা নির্মাণে কউকের অনুমোদন প্রয়োজন। এখানে অনুমোদন না নিয়ে কাজ চলছিল। আমরা আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছি।”

সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি ভাইরাল হলে স্থানীয় প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। এখন প্রশাসন জানিয়েছে, দখলবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

- Advertisement -
newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *