জুলাইয়ের ছাত্র–জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী সরকারের পতনের পর গণপূর্ত অধিদপ্তরে দীর্ঘদিন ঢাকায় কর্মরত অনেক প্রকৌশলীকে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, এখনো কিছু কর্মকর্তা নিয়ম–নীতির ফাঁকফোকর ব্যবহার করে ঢাকাতেই অবস্থান করছেন। সরকারি বিধি অনুযায়ী তিন বছর পর অন্য জেলায় পদায়ন হওয়ার কথা থাকলেও এ নিয়ম মানা হচ্ছে না।
তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হুমায়েরা বিনতে রেজাকে এমন এক কর্মকর্তা হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। তিনি বর্তমানে ঢাকা ই/এম সার্কেল ১ এ দায়িত্বে আছেন। এর আগে তিনি গণপূর্তের এমআইএস সার্কেল, ই/এম সার্কেল ৪ ও পিএন্ডডি সার্কেলে দায়িত্ব পালন করেছেন যেগুলো সবই ঢাকায় অবস্থিত। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ঢাকায় একের পর এক পদায়নের জন্য তিনি প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের আশ্রয় নিয়েছেন।
অভিযোগ আরও রয়েছে, তিনি প্রধান প্রকৌশলীর জারিকৃত প্রজ্ঞাপন অমান্য করে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় কাজের দরপত্র আহ্বান করেন ভিন্ন পদ্ধতিতে। তার নির্দেশে ঢাকা ই/এম বিভাগ ১ এর প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ ওটিএম পদ্ধতিতে আহ্বান করা হয়েছে, যেখানে নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের সুবিধা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। এর বিনিময়ে তিনি কমিশন নিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকা ই/এম বিভাগ ২ ও ৩- এও একই ধরণের প্রক্রিয়া অনুসৃত হচ্ছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানান, নিয়ম–নীতির তোয়াক্কা না করে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিতেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ঢাকা ই/এম সার্কেল ১ এর অধীনে প্রায় ৪০টি কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে, যার অনুমোদনও তিনি দিচ্ছেন।
অভিযোগ রয়েছে, চাকরি জীবনে কখনোই হুমায়েরা বিনতে রেজা মাঠ পর্যায়ের ওয়ার্কিং ডিভিশনে কাজ করেননি, তবুও দীর্ঘদিন ধরে তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে সরকারি চাকরির আচরণবিধি ভঙ্গের মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে।
এসব বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।হুমায়েরা বিনতে রেজার বারবার ঢাকায় পদায়ন প্রসঙ্গে গণপূর্ত অধিদপ্তরের কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
